রায়েরবাজারে দাফন ১১৪ মরদেহের মধ্যে ৮ জনের পরিচয় শনাক্ত, পরিবারের কাছে হস্তান্তর

২০২৪ সালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রায়েরবাজার কবরস্থানে অজ্ঞাত পরিচয়ে দাফন করা ১১৪ জনের মধ্যে ৮ জনের পরিচয় শনাক্ত করে তাঁদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

রায়েরবাজার কবরস্থানে দাফন করা জুলাই আন্দোলনে শহীদরা হলেন—ময়মনসিংহের ফুলপুরের মো. মাহিন মিয়া (২৫), শেরপুরের শ্রীবরদীর আসাদুল্লাহ (২৩), চাঁদপুরের মতলবের পারভেজ বেপারী (২৪), পিরোজপুরের নাজিরপুরের  রফিকুল ইসলাম (২৫), মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ের মো. সোহেল রানা (২৯), ফেনী সদরের রফিকুল ইসলাম (৩০), কুমিল্লার দেবিদ্বারের ফয়সাল সরকার (৩৫) ও ঢাকার মুগদা এলাকার কাবিল হোসেন (৫১)।

আজ ‎সোমবার সকালে রায়েরবাজার কবরস্থানে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অজ্ঞাতনামা শহীদদের মরদেহের পরিচয় শনাক্তকরণ অনুষ্ঠানে সিআইডি প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহ এসব তথ্য জানান।

সিআইডির প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহ বলেন, ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত গণঅভ্যুত্থানের সময় অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে ১১৪ জনের মরদেহ রায়েরবাজার কবরস্থানে দাফন করা হয়। পরবর্তীতে শহীদ পরিবারের দাবি ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে নির্দেশক্রমে এই মৃতদেহগুলো উত্তোলন ও শনাক্তকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) গত বছরের ৭ থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১১৪টি মৃতদেহ উত্তোলন, ময়নাতদন্ত এবং ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের কার্যক্রম পরিচালনা করে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন এবং আন্তর্জাতিক ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে কার্যক্রমটি আন্তর্জাতিক মান ও মিনেসোটা প্রটোকল অনুসারে সম্পন্ন করা হয়।

সিআইডির প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি আরও বলেন, সিআইডির ডিএনএ ল্যাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে ৯টি আবেদনকারীর মধ্যে ৮টি শহীদ পরিবারের প্রিয়জনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে এবং বাকি ১টি মৃতদেহের শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া দ্রুতগতিতে চলছে। এই উদ্যোগ শহীদদের মর্যাদা রক্ষা, নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিচয় নির্ধারণ এবং ভবিষ্যতের বিচারিক ও অনুসন্ধানমূলক কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ফরেনসিক প্রমাণ সংরক্ষণে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ‎

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অজ্ঞাতনামা শহীদদের কবরের পাশে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনেরা। ছবি: আজকের পত্রিকা
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অজ্ঞাতনামা শহীদদের কবরের পাশে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনেরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

মো. ছিবগাত উল্লাহ আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করে এমন সংবেদনশীল কার্যক্রম পেশাদারিত্ব এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন করা হয়েছে। এই কার্যক্রম নিখোঁজ শহীদদের পরিচয় নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এনে দিয়েছে এবং ভবিষ্যৎ বিচারিক প্রক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ফরেনসিক প্রমাণ সংরক্ষণে সহায়ক হবে।’ ‎

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অজ্ঞাতনামা শহীদদের মরদেহের পরিচয় শনাক্তকরণ অনুষ্ঠানে সিআইডি প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহ। ছবি: আজকের পত্রিকা
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অজ্ঞাতনামা শহীদদের মরদেহের পরিচয় শনাক্তকরণ অনুষ্ঠানে সিআইডি প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহ। ছবি: আজকের পত্রিকা

‎এ সময় শনাক্ত হওয়া মৃত আট জনের পরিবারের সদস্যরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

কবর বুঝে পেয়ে শহীদ মো. সোহেল রানার মা রাশেদা বেগম বলেন, ‘আমার সোহেলকে কত জায়গায় কত হাসপাতালে খুঁজেছি। সিআইডি আমার সোহেলকে খুঁজে দিয়েছে। তাদের ধন্যবাদ জানাই।’ ‎

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অজ্ঞাতনামা শহীদদের মরদেহের পরিচয় শনাক্তকরণ অনুষ্ঠানে সিআইডি প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহ। ছবি: আজকের পত্রিকা
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অজ্ঞাতনামা শহীদদের মরদেহের পরিচয় শনাক্তকরণ অনুষ্ঠানে সিআইডি প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহ। ছবি: আজকের পত্রিকা

অনুষ্ঠান শেষে পরিচয় শনাক্ত হওয়া পরিবারগুলোকে কবর বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় স্বজনেরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বীর প্রতীক ফারুক ই আজম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়; গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *