ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় মিজানুর রহমান নামে এক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যের আওয়ামী লীগ নেতা থেকে জামায়াত ইসলামীর নেতা বনে যাওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। একসময় সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত মিজানুর এখন ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি বলে জানা গেছে।
Play
google news
দেশ টিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
তবে তার দাবি, এলাকার স্বার্থে আওয়ামী লীগের মিটিং মিছিলে অংশগ্রহণ করেছেন, তবে ব্যক্তি হিসেবে আওয়ামী লীগের নন। মন থেকে জামায়াতের রাজনীতি পছন্দ করতেন বলেও জানান মিজানুর।
মিজানুর রহমান উপজেলার খাড়েরা ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য। তিনি ওই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কমিটির ৩৭ নম্বর সদস্য।
মিজানুর রহমানের দাবি, তিনি জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি করেন। তিনি ওই ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি এবং নির্বাচন পরিচালনায় আহ্বায়ক কমিটির সদস্য।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিগত সরকারের সময় মিজানুর রহমান তৎকালীন আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সে সময় তিনি আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সভা-সমাবেশ, মিছিল ও দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতেন এবং নিজেকে আওয়ামী লীগের একজন প্রভাবশালী নেতা হিসেবে উপস্থাপন করতেন।
গত ২০১৯ সালে অনুমোদন দেওয়া খাড়েরা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের ১০১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির ৩৭ নম্বর সদস্য তিনি। তবে গণঅভ্যূত্থানের পর মিজানুর রহমানকে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত হতে দেখা যায়।
তিনি খাড়েরা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতির দায়িত্ব পান। শুধু তা-ই নয়, তাকে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ওই ওয়ার্ডের কেন্দ্র পরিচালনার আহবায়ক কমিটির সদস্য করা হয়েছে। এরপরই মিজানুর রহমান সদস্য থাকা খাড়েরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অনুমোদিত কমিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে খাড়েরা ইউনিয়ন বিএনপির শ্রমিক দলের সভাপতি নাসিরুদ্দিন বলেন, ‘হাসিনা সরকারের সময় তিনি আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় থেকে নানা সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন। এখন রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলানোর সঙ্গে সঙ্গে নিজের কুকর্ম আড়াল করতে জামায়াতে ইসলামের রাজনীতিতে আশ্রয় নিয়েছেন। জনগণ এসব ভালো করেই বুঝে।’
খাড়েরা ইউনিয়ন কৃষক দলের সদস্য সচিব বাবুল মিয়া বলেন, ‘জনগণের ভোটে নির্বাচিত একজন জনপ্রতিনিধির এভাবে বারবার রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন দুঃখজনক। রাজনীতি আদর্শের জায়গা হলেও এখানে আমরা আদর্শ নয়, কেবল ব্যক্তিস্বার্থের প্রতিফলন দেখতে পাচ্ছি।’
খাড়েরা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি শরীফ উদ্দিন জানান, গত একবছর ধরে মিজান মেম্বার খাড়েরা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর ৮ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি পদে আছেন। তিনি আওয়ামী লীগের ছিলেন, এমন কিছু জানা নেই তার।
তবে ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমি মেম্বার যখন নির্বাচনি করি তখন জামায়াত শিবির ট্যাগ দিয়ে আমার ৩০০ ভোট চুরি করা হয়েছে। ভাগ্যক্রমে এক ভোটে আমি জয়লাভ করি। তখন আওয়ামী লীগের সরকার থাকায় আমাকে বিভিন্ন কাজে থাকতে হয়েছে, নাহলে আমি কাজ পাব না। আমি এলাকার স্বার্থে আওয়ামী লীগের মিটিং মিছিলে অংশগ্রহণ করেছি, আমি ব্যক্তি হিসেবে আওয়ামী লীগের না। কিন্তু আমি মন থেকে জামায়াতের রাজনীতি পছন্দ করতাম।’
আওয়ামী লীগের কমিটিতে নিজের পদের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের কমিটি যখন দেওয়া হয়, তখন তো আমাকে কিছু বলে নাই। তাদের মনগড়া ভাবে আমার নাম দিয়েছে। আমি তা জানিও না, মানুষের কাছ থেকে শুনেছি।’


