“বাংলাদেশকে ভালো রাখতে হলে খালেদা জিয়াকে ধারণ করতে হবে”—আসিফ নজরুল

তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার (Khaleda Zia) স্মৃতিচারণ করে আইন উপদেষ্টা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ নজরুল (Asif Nazrul) বলেছেন, বাংলাদেশ যদি সত্যিকার অর্থে ভালো থাকতে চায়, তবে তাকে বেগম খালেদা জিয়ার অস্তিত্ব ধারণ করতে হবে।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নাগরিক সমাজের আয়োজনে আয়োজিত এক নাগরিক শোকসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

আসিফ নজরুল বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া যখন জীবিত ছিলেন, আমি প্রায়ই তার পক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যেতাম। তখন বলতাম—উনি ভালো থাকলে, বাংলাদেশও ভালো থাকবে। আজ প্রশ্ন—বাংলাদেশ কি ভালো আছে? আমি বলব, যদি বাংলাদেশকে ভালো রাখতে হয়, তাহলে খালেদা জিয়াকে ধারণ করতে হবে।”

তিনি বলেন, “ওনার বন্দিদশায় অনেক অনুষ্ঠানে ওনার পক্ষে কথা বলেছি। তখন ওনার পক্ষে প্রকাশ্যে কথা বলার মানুষ খুঁজে পাওয়া যেত না।”

স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আসিফ নজরুল বলেন, “ওনার এক বিচারের কথা মনে পড়ে, যে বিচারে উনি বিস্মিত হয়ে বলেছিলেন, ‘আমি মেরে খেয়েছি এতিমের টাকা?’ সেই বিস্ময়-ব্যথার প্রতিক্রিয়াকে বিচারক লিখেছিলেন, বেগম জিয়া নিজেই স্বীকার করেছেন। আমি একজন আইনের ছাত্র হিসেবে বলি—এটা ছিল একটি জঘ’\ন্য বিচার।”

তিনি জানান, “বিচারের প্রতিবাদে বিবৃতি দিতে বহু মানুষের কাছে গেছি। কিন্তু কেউ সাহস করেনি। চারজন রাজি হয়েছিল, কিন্তু চারজনের বিবৃতি হয় না। পত্রিকায় ছাপানোও হয়নি।”

আসিফ নজরুল আরও বলেন, “খালেদা জিয়া যখন মৃত্যুপথযাত্রী, তখন তাকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য পাঠানোর অনুরোধে বহু মানুষের কাছে কেঁদেছি, অনুরোধ করেছি। কিন্তু অনেকেই সাহস করেনি। কিছু মানুষ চেয়েছিল, কিন্তু ভয়ে চুপ থেকেছে।”

তিনি বলেন, “খালেদা জিয়ার অসাধারণ কিছু গুণ ছিল। তিনি সৎ, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, পরমতসহিষ্ণু ও আত্মত্যাগী ছিলেন। তার দেশপ্রেম ও ব্যক্তিত্বের মধ্যে ছিল অনন্য সৌন্দর্য, শালীনতা।”

শোকসভার শেষ পর্যায়ে এসে আসিফ নজরুল বলেন, “আজকে আমরা মুক্তভাবে বেগম জিয়াকে ভালোবাসা জানাতে পারছি, এটা আমার ভালো লাগছে। আল্লাহর কাছে হাজার শোকর ও জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা—কারণ এখন মানুষ স্বাধীনভাবে ভালোবাসা প্রকাশ করতে পারছে, ঘৃণাও করতে পারছে। এজন্যই একজন নেত্রীর ঠাঁই হয়েছে মানুষের হৃদয়ে, আরেকজনের ঠাঁই হয়েছে বি’\তা’\ড়ি’\ত ভূমিতে।”

শোকসভায় সভাপতিত্ব করেন সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ জে. আর. মোদাচ্ছির হোসেন। উপস্থাপনায় ছিলেন আশরাফ কায়সার ও কাজী জেসিন। সভায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্টজন, শিক্ষাবিদ, গবেষক, চিকিৎসক, ধর্মীয় প্রতিনিধি ও পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর নেতারা অংশ নেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *