যে ৩৬ আসনে এখনও বিএনপি’র বিদ্রোহী প্রার্থীরা দলটির মাথা ব্যাথার কারণ

দলের ভেতরে বিদ্রোহী প্রার্থীদের সক্রিয়তা ও নির্বাচনী মাঠে থাকা বিএনপির জন্য বড় ধরনের অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান (Tarique Rahman) এর সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের পর বেশ কয়েকজন বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন, তবু এখনো প্রায় ৫০টি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচনী দৌড়ে রয়েছেন।

BPNP সূত্র জানিয়েছে, দেশব্যাপী ৫২টি আসনে দলের ৯১ জন নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এদের অনেকে এখনো দলীয় পদে আছেন কিংবা অতীতে দায়িত্বশীল ছিলেন। এরই মধ্যে ১১ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করায়।

বাকিদের বিষয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে বিএনপি। গুলশানের দলীয় কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হচ্ছে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের। বৈঠকে তাঁদের বুঝিয়ে বলা হচ্ছে—নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ আসনগুলোতে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা চলছে, যাতে ভোট বিভাজন না হয়। বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমান নিজেই কয়েকজন বিদ্রোহী প্রার্থীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন এবং তাঁদের ভবিষ্যতে মূল্যায়নের আশ্বাস দিয়েছেন।

দলীয় সূত্র জানিয়েছে, এ প্রচেষ্টার ফলে শেষ মুহূর্তে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক স্বতন্ত্র প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। বিএনপির লক্ষ্য হলো—বিদ্রোহী প্রার্থীর সংখ্যা শূন্যে নামিয়ে আনা

এমন অবস্থায়, একদিকে দলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা এবং অন্যদিকে নির্বাচনী কৌশলে ঐক্য বজায় রাখার চাপে রয়েছে বিএনপি।

নিচে আসনভিত্তিক করে দেওয়া হলো বিএনপির মনোনীত ও এখনো মাঠে থাকা বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থীদের তালিকা।

১. ঢাকা-১২
– মনোনীত: সাইফুল হক (বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি)
– বিদ্রোহী: সাইফুল আলম নীরব

২. চট্টগ্রাম-১৪
– মনোনীত: জসিম উদ্দিন আহমেদ
– বিদ্রোহী: শফিকুল ইসলাম রাহী

৩. চট্টগ্রাম-১৬
– মনোনীত: মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী
– বিদ্রোহী: লেয়াকত আলী

৪. সিলেট-৫
– মনোনীত: উবায়দুল্লাহ ফারুক (জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম)
– বিদ্রোহী: মামুনুর রশীদ (চাকসু মামুন)

৫. নাটোর-১
– মনোনীত: ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল
– বিদ্রোহী: ডা. ইয়াসিন আরশাদ রাজন, তাইফুল ইসলাম টিপু

৬. ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১
– মনোনীত: এম এ হান্নান
– বিদ্রোহী: কামরুজ্জামান মামুন, ইকবাল চৌধুরী

৭. ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২
– মনোনীত: জুনায়েদ আল হাবিব (জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম)
– বিদ্রোহী: ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, তরুণ দে

৮. ময়মনসিংহ-১
– মনোনীত: অপ্রকাশিত
– বিদ্রোহী: সালমান উমর রুবেল

৯. ময়মনসিংহ-৩
– মনোনীত: অপ্রকাশিত
– বিদ্রোহী: তায়েবুর রহমান হিরন

১০. ময়মনসিংহ-৬
– মনোনীত: অপ্রকাশিত
– বিদ্রোহী: তানভীর আহমেদ রানা

১১. ময়মনসিংহ-৭
– মনোনীত: অপ্রকাশিত
– বিদ্রোহী: আনোয়ার সাদাত

১২. ময়মনসিংহ-৯
– মনোনীত: অপ্রকাশিত
– বিদ্রোহী: হাসিনা খান চৌধুরী

১৩. ময়মনসিংহ-১০
– মনোনীত: অপ্রকাশিত
– বিদ্রোহী: মুশফিকুর রহমান

১৪. ময়মনসিংহ-১১
– মনোনীত: অপ্রকাশিত
– বিদ্রোহী: মো. মোর্শেদুল আলম

১৫. কিশোরগঞ্জ-৫
– মনোনীত: সৈয়দ এহসানুল হুদা
– বিদ্রোহী: শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল

১৬. চাঁদপুর-৪
– মনোনীত: লায়ন মো. হারুনুর রশিদ
– বিদ্রোহী: এমএ হান্নান

১৭. জয়পুরহাট-২
– মনোনীত: আব্দুল বারী
– বিদ্রোহী: গোলাম মোস্তফা (সাবেক এমপি)

১৮. রাজবাড়ী-২
– মনোনীত: মো. হারুন-অর-রশীদ
– বিদ্রোহী: মো. নাসিরুল হক সাবু

১৯. মাদারীপুর-১
– মনোনীত: নাদিরা আক্তার
– বিদ্রোহী: সাজ্জাদ হোসেন লাভলু সিদ্দিকী, কামাল জামান মোল্লা

২০. মাদারীপুর-২
– মনোনীত: জাহান্দার আলী মিয়া
– বিদ্রোহী: মিল্টন বৈদ্য

২১. হবিগঞ্জ-১
– মনোনীত: রেজা কিবরিয়া
– বিদ্রোহী: শেখ সুজাত মিয়া

২২. পটুয়াখালী-৩
– মনোনীত: নুরুল হক নুর (গণঅধিকার পরিষদ)
– বিদ্রোহী: হাসান মামুন (বহিষ্কৃত)

২৩. ঝিনাইদহ-৪
– মনোনীত: রাশেদ খান
– বিদ্রোহী: সাইফুল ইসলাম ফিরোজ

২৪. নারায়ণগঞ্জ-২
– মনোনীত: নজরুল ইসলাম আজাদ
– বিদ্রোহী: আতাউর রহমান আঙ্গুর (সাবেক এমপি)

২৫. নারায়ণগঞ্জ-৩
– মনোনীত: অপ্রকাশিত
– বিদ্রোহী: মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন (সাবেক এমপি)

২৬. নারায়ণগঞ্জ-৪
– মনোনীত: মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী (জমিয়ত)
– বিদ্রোহী: মোহাম্মদ শাহ আলম, মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন

২৭. গোপালগঞ্জ-২
– মনোনীত: ডা. একেএম বাবর
– বিদ্রোহী: এম সিরাজুল ইসলাম সিরাজ

২৮. বাগেরহাট-১
– মনোনীত: কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল
– বিদ্রোহী: এমএএইচ সেলিম (সাবেক এমপি), শেখ মাসুদ রানা

২৯. বাগেরহাট-২
– মনোনীত: শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন
– বিদ্রোহী: এমএএইচ সেলিম, এমএ সালাম

৩০. ঝালকাঠি-১
– মনোনীত: অপ্রকাশিত
– বিদ্রোহী: গোলাম আজম সৈকত

৩১. সুনামগঞ্জ-৩
– মনোনীত: অপ্রকাশিত
– বিদ্রোহী: ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন

৩২. সুনামগঞ্জ-৪
– মনোনীত: অপ্রকাশিত
– বিদ্রোহী: দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন

৩৩. জামালপুর-২
– মনোনীত: অপ্রকাশিত
– বিদ্রোহী: এএসএম আবদুল হালিম

৩৪. চাঁদপুর-২
– মনোনীত: ড. মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন
– বিদ্রোহী: তানভীর হুদা
– (এমএ শুক্কুর পাটোয়ারী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন)

৩৫. টাঙ্গাইল-১
– মনোনীত: ফকির মাহবুব আনাম স্বপন
– বিদ্রোহী: মোহাম্মদ আলী

৩৬. টাঙ্গাইল-৩
– মনোনীত: ওবায়দুল হক নাসির
– বিদ্রোহী: লুৎফুর রহমান খান আজাদ (সাবেক এমপি)

এছাড়াও অন্তত ৫টি আসনে এখনও ‘মনোনীত’ প্রার্থীদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত হয়নি – সেই সব আসনেও একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন। তাদের বিষয়েও আগামী ৩ দিনের মধ্যেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে বিএনপিকে। এছাড়াও মনোনয়ন বাতিল হয় বেশ কয়েকটি আসনের ক্ষেত্রেও তাদের খুব শিগ্রিই সিদ্ধান্ত জানাতে হবে। তবে ঠিক কয়টি আসনে এমন সিদ্ধান্ত নিতে হবে তা আজ আপিলের শেষ দিনে গিয়ে জাঝা যাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *