জামায়াতে ইসলামীর (Jamaat-e-Islami) নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনি জোটে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (Islami Andolan Bangladesh) না থাকায় ফাঁকা থাকা ৪৭টি আসন কাদের মাঝে ভাগ হবে—এ নিয়ে এখনো চলছে হিসাব-নিকাশ ও টানাপড়েন। জোটের কয়েকটি শরিক দল সূত্রে জানা গেছে, এই আসন বণ্টন নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে, যার বেশির ভাগই ঘুরছে জামায়াত, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি (National Citizens’ Party-NCP), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (Bangladesh Khelafat Majlish), এবং খেলাফত মজলিস (Khelafat Majlish) এই চার দলের মধ্যেই।
জোটের নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে বণ্টনের জন্য থাকা ৪৭ আসনের মধ্যে ১০টি দুটি দলকে দেওয়া হয়েছে। বাকি আসনগুলো ভাগাভাগির ব্যাপারে জামায়াত ও এনসিপির মধ্যে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি নতুন একটি দলকেও জোটে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তবে এই নিয়ে দ্বিমতও রয়েছে জোটের অভ্যন্তরে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, “অন্য কারও জোটের সঙ্গে একীভূত হয়ে কাজ করতে আপত্তি নাই, আগ্রহ আছে। তবে নমিনেশনের সুযোগ নাই আর।” অর্থাৎ, নতুন দলের ক্ষেত্রে মনোনয়ন বণ্টনে ছাড় দিতে নারাজ তিনি।
আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা আরেকটি নাম জেবেল রহমান গানি (Zebel Rahman Ghani) নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) (Bangladesh NAP)। জোটের ভেতরে-বাইরে একাধিক নেতা জানিয়েছেন, জামায়াতের সঙ্গে গত কয়েক মাসে গানির আলোচনা হয়েছে। যদিও রবিবার পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি হয়নি বলেই জানান জেবেল রহমান গনি নিজেই। তিনি বলেন, “আমার সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনা হয়েছে জামায়াতের সিনিয়র একাধিক নেতার। তবে আজ (রবিবার) নাগাদ কোনো অগ্রগতি হয়নি।”
জোটের শরিকদের মধ্য থেকে এক নেতা দাবি করেছেন, জেবেল রহমান গানির নেতৃত্বাধীন দলটি জোটে যুক্ত হতে রাজি আছে, বিশেষ করে ১১ দলীয় ঐক্যর অংশ হতে। এ নিয়ে জোটে আবারও তৎপরতা শুরু হয়েছে।
জোটের অভ্যন্তরে চারটি দলের মধ্যে বণ্টনের যে খসড়া আলোচনায় রয়েছে, তার মধ্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস পাচ্ছে ৭টি আসন এবং খেলাফত মজলিস পাচ্ছে ৩টি আসন। বাকিগুলো নিয়ে চলছে আলোচনার টানাপড়েন।
মামুনুল হক জানান, “ইসলামী আন্দোলন না আসার কারণে ৪৭টি আসন প্রধানত চারটি দলের মধ্যে বণ্টন করা হবে। জামায়াত, এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও খেলাফত মজলিসের আসন বাড়ছে।” তার ভাষ্য অনুযায়ী, এর ফলে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আসন সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ২৭-এ এবং খেলাফত মজলিসের আসন হবে ১৩টি।
তবে জোটের অন্য নেতারা এখনো আসন বণ্টন চূড়ান্ত হয়নি বলে মত দিয়েছেন। তাদের ধারণা, সোমবারের মধ্যে একটি পরিষ্কার সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
এদিকে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “আমাদের কোনো দাবি নাই, কথাবার্তা বলতেছি।” তিনি আরও জানান, “সবার সঙ্গে তো বৈঠক হয়নি। কালকের (সোমবার) মধ্যে আশা করি একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারবো। আমাদের মধ্যে কোনো দর কষাকষি নাই, আমরা চাই, যত বেশি আসনে জিতে আসা যায়। এই বিষয়ে আমরা পজিটিভ রয়েছি।”
জোটের আরও একটি শরিক এবি পার্টি (AB Party) ইতোমধ্যেই ৩টি আসন নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছে। তবে শোনা যাচ্ছে, ফাঁকা থাকা ৪৭টি আসনের মধ্যে আরও কিছু আসন তাদের দেওয়া হতে পারে। যদিও দলটির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তার মন্তব্য, “সোমবার নাগাদ আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পারবো।”
সব মিলিয়ে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে ইসলামী আন্দোলনের না থাকাটা যে একটা বড় শূন্যতা তৈরি করেছে, সেটি এই আসন বণ্টনের আলোচনাতেই স্পষ্ট। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত কারা কত আসন পায় এবং কাদের বাদ দিয়ে জোট গঠনের চূড়ান্ত রূপরেখা দাঁড়ায়।


