প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, নির্বাচন নিয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের সভা প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব জানিয়েছেন, আজ প্রতীক বরাদ্দের তারিখ এবং আজ মধ্যরাত থেকে পোস্টাল ব্যালটের ছাপা শুরু হবে। কাল সকাল থেকে এটা পুরোদমে শুরু হবে এবং এটা ইসি সিদ্ধান্ত নেবে কখন পাঠাবে, এটা আপনাদের পরবর্তী সময়ে জানিয়ে দেওয়া হবে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুল আলম বলেন, সভায় জানানো হয়েছে, এবার প্রথমবারের মতো নির্বাচনে ৫৯ জন রিটার্নিং অফিসার থাকবেন এবং প্রথমবারের মতো আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা– এটা ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনার জন্য রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসক রিটার্নিং অফিসার থাকবেন ৬৪ জন। আরও দুই জন বিভাগীয় কমিশনার থাকবেন। সহকারী রিটার্নিং অফিসার সব মিলে থাকবেন ৫৯৮ জন। এর মধ্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার থাকছেন ৪৯৫ জন। উপজেলা নির্বাচন অফিসার বা থানা নির্বাচন অফিসার থাকছেন ৬৮ জন, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা থাকছেন ১১ জন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঁচ জন, ক্যান্টনমেন্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার চার জন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, রাজস্ব জেলা পর্যায়ের প্রশাসকের কার্যালয়ে চার জন আরও বাকি বেশ কিছু জন আছেন।
প্রেস সচিব জানান, বৈধভাবে মনোনীত প্রার্থীর সংখ্যা ১ হাজার ৮৪২। অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৫১টি। ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৪২ হাজার ৭৭৯টি। নির্বাচনে ভোটিং বুথ থাকছে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৯২, আর ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩। তার মধ্যে পুরুষ আছেন ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন এবং আর নারীর সংখ্যা ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০। হিজড়া জনগোষ্ঠির মধ্যে ভোটার হয়েছেন ১ হাজার ২৩২ জন।
প্রেস সচিব জানান, ভোট গ্রহণের আগে চার দিন ও ভোট গ্রহণের দিন এবং ভোট গ্রহণের পরে দুই দিন অর্থাৎ ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সর্বমোট সাত দিনের জন্য ৩০০টি আসনে ৬৫৭ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের প্রস্তাব করা হয়েছে। ১ হাজার ৪৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে এ বছর কমপক্ষে ১৫ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য থাকছেন। তার মধ্যে কেউ কেউ আছেন রেগুলার ফোর্সের বাহিনী, কেউ কেউ ইর্রেগুলার ফোর্সের বাহিনীর। সাধারণ ভোটকেন্দ্রে ১৫ থেকে ১৭ জন আর গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ১৮ থেকে ১৯ জন পর্যন্ত যাবে।
প্রেস সচিব বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অনেকগুলো ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের কথা বলা হয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে কী কী মেজার নেওয়া হচ্ছে এবং আশা করা যাচ্ছে, আগামী মিটিংগুলোতে এটা আরও আপডেটেড লিস্ট হবে। এখানে আজ যেই বর্ণনা বলা হয়েছে, বাংলাদেশ পুলিশ সদস্য কর্তৃক অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে মোট ২৫ হাজার ৫০০টি বডি অন ক্যামেরা ব্যবহৃত হবে। ইতোমধ্যে সব ক্যামেরা সরবরাহ করা হয়েছে এবং তা ব্যবহার উপযোগী হয়েছে। আজকের মিটিংয়ে এটা একটা ট্রায়াল করা হয়।
প্রেস সচিব জানান, একই সময়ে সেনাবাহিনী কুইক রেসপন্সের জন্য স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে থাকবে। আজ জানানো হয়, আর্মির তরফ থেকে মোট এই প্রথমবারের মতো ১ লাখেরও বেশি সেনাবাহিনীর সদস্য থাকবেন, নৌবাহিনীর সদস্য ৫ হাজারের ওপরে থাকবেন। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ৩ হাজার ৭৩০ জন থাকবেন। আর বাংলাদেশ পুলিশের থাকবেন প্রায় দেড় লাখ। বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর পাঁচ লাখ ৭৬ হাজার। আর বর্ডার গার্ডের থাকবেন প্রায় ৩৮ হাজার। বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ৩ হাজার ৫০০ এর ওপরে। র্যাবের থাকবেন প্রায় ৮ হাজার এবং ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরে থাকবেন আরও ১৩ হাজার ৩৯০ জন। এছাড়া বিএনসিসির মেম্বাররাও থাকতে পারেন। আমরা আশা করছি, ১৫ হাজার বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের মেম্বার থাকবেন। এই প্রথমবারের মতো ফায়ার সার্ভিসকে যুক্ত করা হলো, যাতে তারা খুব দ্রুত কোনও জায়গায় রেসপন্স করতে পারেন।
এইবারের প্রথম ড্রোন থাকবে। প্রায় পাঁচশ’র মতো ড্রোন ডেপ্লয় করা হচ্ছে। পুলিশের ডগ স্কোয়াড থাকবে এবং ডগ স্কোয়াড ৫০টির মতো তারাও দেখবে এবং ড্রোনের ক্ষেত্রে যেটা হচ্ছে, যেহেতু ড্রোন সরকারই সিকিউরিটি ফোর্স, পুরো ড্রোন তারাই ম্যানেজ করবে। আশপাশে কিছু রেস্ট্রিকশন থাকবে যাতে অন্যান্য কেউ সাধারণ মানুষ যাতে ড্রোন না উড়াতে পারেন।


