“একটি দল নতুন করে ভারতের সঙ্গে আপস করে আবার দেশ শাসনের জন্য বাংলাদেশকে বিক্রি করে দিতে চায়”—এমন বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকালে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের চিওড়া ইউনিয়নের ধোড়করা হাইস্কুল মাঠে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সমর্থনে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “দেশ আজ দুইভাগে বিভক্ত। সামনে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নির্ধারণ করবে, আমরা মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার চেতনায় মাথা উঁচু করে থাকব, নাকি আবার অন্ধকারে ফিরব।”
ডা. তাহের বলেন, “আমরা একটি বৃহৎ রাজনৈতিক জোটের মাধ্যমে নির্বাচন করছি। এই জোটে দেশের সব ইসলামী দল এবং ৭১-এর বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল অলি আহমেদ বীর বিক্রম আছেন। ইনশাআল্লাহ, ১২ ফেব্রুয়ারি আমরা সরকার গঠন করব।” তিনি বলেন, “আমাদের সরকার হবে দুর্নীতিমুক্ত। আমরা লড়াই করছি ফ্যা’\সিবাদ, দু’\র্নী’\তিবাজ ও চাঁ’\দা’\বা’\জদের বিরুদ্ধে। আরেক পক্ষ এসব অপশক্তিকে পুনর্বাসনে মরিয়া।”
চাঁ’\দা’\বা’\জির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “স্বৈরাচার পতনের পর গত দুই বছরে চাঁ’\দা’\বা’\জির জায়গা দখল করেছে আরেকটি দল। আগে ১০ টাকা চাঁ’\দা দিতে হতো, এখন ২০ টাকা দিতে হয়। রিকশাওয়ালা, দোকানদার, বাসস্ট্যান্ড, বালুর ব্যবসায়ীরা—সবাই চাঁ’\দা’\বা’\জির শিকার।”
তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, “আমরা এমন এক দেশ গড়ব যেখানে চাঁ’\দা’\বা’\জি থাকবে না, দু’\র্নী’\তি থাকবে না, উচ্চ শিক্ষা থাকবে, সম্মান থাকবে। বাংলাদেশ স্বাধীনভাবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে ইনশাআল্লাহ।”
নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “ভোটারদের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করছে একটি দল। প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিজেই বলেছেন এটি বেআইনি।” তাহের দাবি করেন, চৌদ্দগ্রামের জনগণ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে শতভাগ ভোট দিতে প্রস্তুত।
জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক ও কুমিল্লা-৪ আসনের প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. জাহিদুল ইসলাম।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, “গত ১৭ বছর দেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতা ছিল না। মাইক কেড়ে নেওয়া হতো, ভি’\ন্ন’\মতাবলম্বীদের গু’\ম, আ’\য়’\না’\ঘ’\রে নেওয়া, ক্র’\স’\ফা’\য়া’\রে দেওয়া হতো।” তিনি বলেন, “২৪ পরবর্তী বাংলাদেশে এসব আর হবে না। হোক সে হিন্দু, মুসলমান, পাহাড়ি, সমতলের মানুষ কিংবা খ্রিস্টান বা সাঁওতাল—সবাই বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে সমান মর্যাদা নিয়ে বাঁচবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ব, যেখানে কে বাঙালি বা কে বাংলাদেশি—এই কটু তর্ক আর থাকবে না। থাকবে একতা ও সমতার রাজনীতি।”
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন চিওড়া ইউনিয়ন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান উপদেষ্টা মহিউদ্দিন আহমদ ভূঁইয়া নঈম। সঞ্চালনায় ছিলেন মোহাম্মদ ইউসুফ। বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কুমিল্লা জেলা উত্তরের সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম শহীদ, উপজেলা জামায়াত আমির মাহফুজুর রহমান, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মজিবুর রহমান ভূঁইয়া, জাতীয় যুব শক্তির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আবু সুফিয়ান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের শূরা সদস্য আইয়ুব আলী ফরায়েজীসহ আরও অনেকে।
উপস্থিত ছিলেন চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী।


