ভোটকেন্দ্রে ভোরে হাজির হয়ে ফজরের নামাজ পড়ার আহ্বান তারেক রহমানের

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ভোট সুরক্ষা ও গণজাগরণের ডাক দিলেন তারেক রহমান (Tarique Rahman)। কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, এবার আর সকালবেলা ভোটকেন্দ্রে যাওয়া যথেষ্ট নয়—ভোর বেলাতেই উপস্থিত হতে হবে। তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করে ভোটকেন্দ্রের সামনে জড়ো হয়ে ফজরের জামাত আদায়ের পর সারাদিন ব্যালট বাক্স পাহারা দেওয়ার নির্দেশনা দেন তিনি। উদ্দেশ্য, যেন কেউ কোনো রকম ষড়যন্ত্র করতে না পারে।

রবিবার রাত ৯টার দিকে চৌদ্দগ্রাম হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত এই জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, “৫ আগস্টের পরিবর্তনের পর মানুষ নতুন করে আশা করতে শুরু করেছে। এই প্রত্যাশা পূরণে আমাদের কাজ করতে হবে।”

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ঘরে ঘরে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড এবং বেকার তরুণদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। দেশের মসজিদভিত্তিক সমাজকাঠামোর প্রতি দৃষ্টি রেখে ইমাম, খতিব এবং মুয়াজ্জিনদের জন্য ভাতা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

তরুণ সমাজ, কৃষক ও অভিবাসন

তারেক রহমান বলেন, “এই অঞ্চল সবজির ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত। আবার এখানকার অনেক তরুণ বেকার। বিএনপি আগেও দেশ চালিয়েছে—আমাদের সেই অভিজ্ঞতা আছে। আমরা জানি পরিকল্পনা কিভাবে বাস্তবায়ন করতে হয়।”

তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, সরকার গঠন করতে পারলে কৃষকদের সার, বীজসহ কৃষি সামগ্রী সরবরাহে কৃষক কার্ড চালু করা হবে। পাশাপাশি বলেন, “বেকারদের জন্য আমরা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তুলব। যাতে তারা বিদেশে গিয়ে ভালো চাকরি পেতে পারে। বিশেষত, এই এলাকার যুবকরা মধ্যপ্রাচ্যে যান—তাদের জন্য বিদেশি ভাষা ও পেশাগত প্রশিক্ষণ আমরা নিশ্চিত করব।”

মহিলাদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ প্রসঙ্গে বলেন, “আমরা বলিনি পরিবারগুলোর সবকিছু আমরা দেব। আমরা বলেছি ধাপে ধাপে মানুষের চাহিদা পূরণ করব। পাঁচ বছরের মেয়াদে আমরা চেষ্টা করব যেন এই কার্ড ঘরে ঘরে পৌঁছাতে পারে।”

সমালোচনার জবাব

বক্তব্যে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের দিকে ইঙ্গিত করে তারেক রহমান বলেন, “যারা সমালোচনা করছে তাদের দেশ চালানোর কোনো অভিজ্ঞতা নেই। তারা শুধু আবোল-তাবোল কথা বলছে।” তিনি আরও বলেন, “যদি আমরা ধোঁকা দিই, তাহলে পরেরবার আপনারা আমাদের বিশ্বাস করবেন না। কিন্তু আমার তো রাজনীতি করতে হবে। তাই কথা দিয়ে কথা রাখতে চেষ্টা করব।”

তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, বিএনপি বিজয়ী হলে দেশের প্রতিটি অঞ্চলে খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং চৌদ্দগ্রামে এসে খাল খননের উদ্বোধন করবেন বলেও জানান।

সমাবেশে অংশ নেওয়া অন্যান্য নেতারা

এদিনের সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমিনুর রশীদ ইয়াছিন, কুমিল্লা বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মোস্তাক মিয়া, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কুমিল্লা-১১ আসনের প্রার্থী মো. কামরুল হুদা, কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি মোনায়েম মুন্না এবং জাতীয় পার্টি (জাফর) নেতা কাজী নাহিদ।

তারেক রহমান বলেন, “এই রাজনৈতিক মঞ্চে দাঁড়িয়ে ইচ্ছে করলে প্রতিপক্ষের কঠোর সমালোচনা করতে পারতাম। কিন্তু আমি তা করিনি। মানুষ জানতে চায় আমি দেশের জন্য কী করতে চাই। বড় বড় কথা বলে মানুষের পেট ভরানো যায় না। বিএনপি ছাড়া অন্য কোনো দল আজও জনগণের সামনে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তুলে ধরেনি।”

তিনি বলেন, “কে কী বলল, সেটা বড় কথা নয়। আমরা আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করে যাবো।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *