বাংলাদেশসহ একাধিক দেশের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ আরও কঠিন হতে যাচ্ছে। অভিবাসন ভিসা স্থগিতের পর এবার বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য সর্বোচ্চ তিন মাস মেয়াদি এবং একবার প্রবেশযোগ্য (সিঙ্গেল-এন্ট্রি) ভিসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র (United States)। একইসঙ্গে ‘ভিসা বন্ড’ পাইলট প্রোগ্রামের আওতায় ভিসাপ্রাপ্তদের নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ জামানত হিসেবে জমা দিতে হবে।
সোমবার (২৫ জানুয়ারি) ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানায়, নতুন ভিসা ব্যবস্থায় আবেদনকারীদের ভিসা অনুমোদনের ৩০ দিনের মধ্যে বন্ড পরিশোধ করতে হবে। বন্ড প্রদান এবং অন্যান্য শর্ত পূরণের পরই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি মিলবে, তাও নির্ধারিত তিনটি বিমানবন্দরের মধ্যেই সীমিত থাকবে এই প্রবেশাধিকার।
এই তিনটি বিমানবন্দর হলো:
– বোস্টন লোগান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (BOS)
– জন এফ কেনেডি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (JFK)
– ওয়াশিংটন ডুলস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (IAD)
ভিসার শর্ত অনুযায়ী, আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালীন কোনো ধরনের কর্মসংস্থান গ্রহণ না করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই দেশে ফিরতে হবে। শর্তগুলো ঠিকভাবে মানলে বন্ড স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে এবং জমাকৃত অর্থ ফেরত দেওয়া হবে।
বাংলাদেশ ছাড়াও এই ভিসা বন্ড তালিকায় রয়েছে: আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, ভুটান, কিউবা, জিবুতি, ফিজি, নাইজেরিয়া, নেপাল এবং উগান্ডা। এসব দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে থেকে না ফেরা বা ওভারস্টে প্রবণতা তুলনামূলক বেশি হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।
‘ভিসা বন্ড’ প্রোগ্রামের আওতায় বাংলাদেশি নাগরিকদের সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত জামানত দিতে হতে পারে। এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে কঠোরতা বাড়ানোর ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই নতুন নিয়মের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের জন্য বাংলাদেশিদের প্রক্রিয়া আরও ব্যয়বহুল ও জটিল হয়ে পড়বে। কর্মসংস্থান বা দীর্ঘমেয়াদি ভিসার সুযোগ কমে যাবে, একইসঙ্গে বিদেশে থাকার ইচ্ছুকদের উপর আর্থিক চাপও বাড়বে।


