“বিএনপি সরকার গঠনের সুযোগ পেলে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানসহ জনবহুল স্থানে বিনামূল্যে ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করা হবে”

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারলে, দেশব্যাপী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও জনবহুল এলাকায় বিনামূল্যে ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করবে বলে জানিয়েছেন দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন (Dr. Mahdi Amin)। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাজধানীতে ‘আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে আইসিটি সেক্টরের ভূমিকা ও করণীয়’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন।

তিনি বলেন, “১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ক্ষমতায় এলে বিএনপি জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে কাজ করবে। মেধাবীদের জন্য তৈরি হবে সুযোগ, আর প্রযুক্তিই হবে দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের মূল ভিত্তি।” তিনি জানান, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান (Tarique Rahman)-এর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এসব বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে।

ধানের শীষের ৭ অঙ্গীকার

অনুষ্ঠানে মাহদী আমিন বিএনপির পক্ষ থেকে ৭টি প্রধান পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন:

  1. আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নাগরিক সেবা:
    কৃষকদের জন্য “কৃষক কার্ড”, নারীদের জন্য “ফ্যামিলি কার্ড”, এআই-ভিত্তিক স্বাস্থ্য রেকর্ড, স্মার্ট স্কুল, অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা, আধুনিক পুলিশি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ইমিগ্রেশন ও ভূমি ব্যবস্থাপনা—সবই হবে প্রযুক্তিনির্ভর।

  2. দেশীয় প্রযুক্তিপণ্যকে আন্তর্জাতিক মানে তুলে আনা:
    “Made/Assembled/Serviced in Bangladesh” ব্র্যান্ড চালু করে সফটওয়্যার, অ্যাপ ও হার্ডওয়্যার শিল্পে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের উপযোগী করে তোলা হবে।

  3. ১০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান:
    সাইবার নিরাপত্তা, সেমিকন্ডাক্টর, এআই-ডেটা, বিপিও ও ইন্ডাস্ট্রি ৪.০ খাতে সরাসরি ২ লাখ এবং ফ্রিল্যান্সিং ও কনটেন্ট নির্মাতাদের মাধ্যমে আরও ৮ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা রয়েছে।

  4. ডিজিটাল লেনদেন ও পেপাল চালু:
    একটি জাতীয় ই-ওয়ালেট চালু করে পেমেন্ট, কর, ফি ইত্যাদি সহজ ও নিরাপদ করা হবে। এতে ফ্রিল্যান্সার ও ডিজিটাল উদ্যোক্তারা সুবিধা পাবেন।

  5. সবার জন্য বিনামূল্যে ইন্টারনেট:
    স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, অফিস, রেলস্টেশন, এয়ারপোর্টসহ বিভিন্ন স্থানে ফ্রি ইন্টারনেট সরবরাহ করা হবে, যাতে সবাই তথ্য ও প্রযুক্তির সুবিধা পান।

  6. সাইবার নিরাপত্তা ও আইন:
    দেশি-বিদেশি স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে সমন্বয় করে আধুনিক ও শক্তিশালী সাইবার নিরাপত্তা নীতিমালা তৈরি করা হবে। এতে নাগরিক অধিকারও সুরক্ষিত থাকবে।

  7. প্রথম এআই-চালিত ডেটা সেন্টার ক্যাম্পাস:
    ২০২৩ সালে ৬ কোটির বেশি সাইবার হামলার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে টিআর-৪ ও টিআর-৩ মানসম্পন্ন একাধিক আধুনিক ডেটা সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব সেন্টারে জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্টসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিরাপদে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা করা হবে।

বিএনপি মনে করে, ভবিষ্যতের বাংলাদেশ হবে প্রযুক্তিনির্ভর, স্মার্ট এবং নাগরিকবান্ধব। মাহদী আমিন বলেন, “এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রয়োজন জনগণের সঠিক ভোট এবং গণতন্ত্রের পূর্ণাঙ্গ প্রতিষ্ঠা।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *