“ক্ষমতায় এলে প্রথম কাজ ৩১ দফা বাস্তবায়ন” – দ্যা ডিপ্লোম্যাট এর সাথে সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান

প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম The Diplomat Magazine-এ প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে বিএনপি (BNP) নেতা তারেক রহমান (Tarique Rahman) বলেছেন, “আমরা জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করব—এটাই আমার অঙ্গীকার।” বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার সম্ভাব্য দায়িত্ব গ্রহণ সামনে রেখে সাক্ষাৎকারটি নানা দিক থেকে গুরুত্ব পেয়েছে।

তারেক রহমানকে বাংলদেশের সম্ভবত বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসাবে উপস্থাপন করে প্রতিবেদনটিতে বলা হয় , বাংলাদেশ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি তারিখে পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করতে যাচ্ছে। একই দিনে দেশের ভবিষ্যৎ শাসন কাঠামো নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর এটিই প্রথম জাতীয় নির্বাচন, যা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রাপথে এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

দীর্ঘ ১৬ বছরের স্বৈরশাসনের অবসানের পর, ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তের এবং ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক পটভূমির মানুষকে একত্র করেছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, মাদ্রাসার শিক্ষার্থী এবং গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মীরা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-র কঠোর দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে রাজপথে নেমে আসে। এই গণআন্দোলনের ফলেই শেখ হাসিনার শাসনের অবসান ঘটে এবং দেশে একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক নির্বাচনের নতুন আশা সৃষ্টি হয়।

এই নির্বাচনের ভোটারদের একটি বড় অংশ জেনারেশন জি (Gen-Z)—যার অর্থ, বাংলাদেশের যুবসমাজই কার্যত নির্ধারণ করবে কে হবেন দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী। লক্ষণীয় যে, জেনারেশন জি-এর একটি বড় অংশ বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে, বিশেষ করে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর নেতৃত্বাধীন কর্মসূচিগুলোতে।

ডিসেম্বরে পরিচালিত একটি জনমত জরিপে দেখা যায়, বিএনপি-র প্রতি জনসমর্থন প্রায় ৭০ শতাংশ, যেখানে এর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী-র প্রতি সমর্থন ১৯ শতাংশ। অন্যদিকে, বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনোভেশন কনসাল্টিং-এর আরেকটি জরিপ অনুযায়ী, ৪৭ শতাংশেরও বেশি মানুষ তারেক রহমানকে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান। বিপরীতে, ২২.৫ শতাংশ ভোটার জামায়াতের আমিরকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে আগ্রহী।

রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হয়ে গ্রেপ্তার এড়াতে দীর্ঘ ১৭ বছর লন্ডনে স্ব-নির্বাসনে থাকার পর, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তারেক রহমান বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করেন—যা দেশের রাজনীতিতে এক বড় মোড় সৃষ্টি করে।

আন্তর্জাতিক সাময়িকী The Diplomat-এর পক্ষে সাংবাদিক শাহাদাত স্বাধীন যমুনা নদীর তীরে আয়োজিত একটি বিশাল রাজনৈতিক সমাবেশে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ওই সমাবেশে লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। তারেক রহমান মঞ্চে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গেই নিরাপত্তা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতা গ্রহণ করে এবং পুরো সমাবেশস্থলে দৃশ্যমানভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।

সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তাজাখবরের পাঠকদের জন্য তার সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো।

২০ বছর পর মাটির টানে মাঠে ফিরে তারেক রহমান
জেলা পর্যায়ে দীর্ঘ ২০ বছর পর সফরে গিয়ে নতুন অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, “আগে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়েই কর্মসূচি হতো, এখন সাধারণ মানুষও দলে দলে যোগ দিচ্ছেন। আমি মানুষের মধ্যে পরিবর্তনের প্রবল আকাঙ্ক্ষা দেখছি। তরুণরা এগিয়ে আসছে, আমার সঙ্গে সেলফি তুলছে—এটা এক নতুন ও আনন্দের অভিজ্ঞতা।”

তরুণদের হৃদয়ে জায়গা করে নিচ্ছেন কেন?
জেনারেশন জেডের (Gen Z) মাঝে তার জনপ্রিয়তার কারণ হিসেবে তারেক রহমান বলেন, “তাদের ভাবনাগুলো আমরা গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছি। কর্মসংস্থান, আইটি, খেলাধুলা, কারিগরি শিক্ষা—এসব খাতে আমরা অগ্রাধিকার দিচ্ছি। ‘The Plan’ নামে একটি কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভাবনা ও উদ্ভাবনী ধারণা শুনছি।”

ট্রিলিয়ন ডলারের স্বপ্ন—বাস্তব না অলীক?
এই প্রশ্নে তার স্পষ্ট উত্তর, “চ্যালেঞ্জিং হলেও এটা সম্ভব। আমরা আইটি, সেমিকন্ডাক্টর, হালকা প্রকৌশল, চামড়া শিল্প ও এসএমই খাতে জোর দেব। পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাত খাদ্য ও সৃজনশীল খাতেও আমাদের বিশাল সুযোগ রয়েছে।”

দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি
গত ১৫ বছরের অর্থপাচার ও ঋণখেলাপি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা যদি জনগণের ভোটে ক্ষমতায় আসি, তবে জনগণের টাকায় কেউ হাত দিতে পারবে না। দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করব এবং ক্ষমতার অপব্যবহারে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করব।”

“বাংলাদেশ ফার্স্ট”—পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতি
তার বৈদেশিক নীতির অবস্থান স্পষ্ট: “বাংলাদেশ ফার্স্ট—এটাই আমাদের বৈদেশিক নীতির মূল দর্শন হবে। জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস ও সহযোগিতার ভিত্তিতে আমরা বৈদেশিক সম্পর্ক পরিচালনা করব।”

ক্ষমতায় এলে প্রথম কাজ কী?
তারেক রহমান বলেন, “আমরা আমাদের ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নে কাজ করব। বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার কার্ড, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান ও শিক্ষা খাতে আমরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেব। জনগণের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করাই হবে আমাদের প্রধান দায়িত্ব।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *