আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে দেশের রাজনীতিতে বড় ধরনের মতামত পরিবর্তনের আভাস মিলেছে এক সাম্প্রতিক জনমত জরিপে। ‘আনকাভারিং দ্য পাবলিক পালস’ শীর্ষক গবেষণায় দেখা গেছে, পূর্বে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের প্রায় ৪৮ শতাংশ এখন বিএনপিকে সমর্থন করছেন। অপরদিকে, নতুন ভোটারদের ৩৭ দশমিক ৪ শতাংশ—জামায়াতকে পছন্দ করছেন বলে উঠে এসেছে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই জরিপ প্রতিবেদন প্রকাশ করে কমিউনিকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ফাউন্ডেশন (সিআরএফ) এবং বাংলাদেশ ইলেকশন অ্যান্ড পাবলিক ওপিনিয়ন স্টাডিজ (বিইপিওএস)।
জরিপে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহাবুল হক এবং গবেষণা উপস্থাপন করেন লেখক ও গবেষক জাকারিয়া পলাশ, যিনি সিআরএফ-এর স্ট্র্যাটেজিক কো-অর্ডিনেটর। আলোচক হিসেবে যুক্ত ছিলেন যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব রিডিংয়ের অর্থনীতি বিভাগের ভিজিটিং প্রফেসর ড. এম. নিয়াজ আসাদুল্লাহ।
১১ হাজার ভোটারের ওপর জরিপ
২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত, স্ট্রাটিফাইড র্যান্ডম স্যাম্পলিং পদ্ধতিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ১১ হাজার ৩৮ জন ভোটারের মতামত সংগ্রহ করা হয়। এতে উঠে আসে ভোটারদের রাজনৈতিক আচরণ, উদ্বেগ, এবং নেতৃত্ব নিয়ে ভাবনার চিত্র।
দুর্নীতিই বড় ইস্যু
ভোটারদের অগ্রাধিকার ইস্যুতে দুর্নীতি ও সুশাসনকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছেন ৬৭.৩ শতাংশ অংশগ্রহণকারী। ধর্মীয় ইস্যুকে গুরুত্ব দিয়েছেন মাত্র ৩৫.৯ শতাংশ।
নেতৃত্বে জনদরদিতার চাহিদা
ভোটাররা এমন নেতাকে পছন্দ করছেন যিনি জনদরদি, দায়িত্বশীল এবং কার্যকর নেতৃত্ব দিতে সক্ষম। ব্যক্তিগত ক্যারিশমার চেয়ে জনকল্যাণমূলক মনোভাবকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন তারা।
ভোটদানে আগ্রহ ও উদ্বেগ
গবেষণায় দেখা যায়, ৯০ শতাংশ ভোটার আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণে আগ্রহী। তবে ৮ শতাংশ এখনো সিদ্ধান্তহীন। লিঙ্গ, বয়স, বা শিক্ষার পার্থক্য ভোটদানে আগ্রহে তেমন প্রভাব ফেলছে না।
প্রার্থী ও দলের ভারসাম্য
ভোট দিতে গিয়ে ৩০.২ শতাংশ ভোটার কেবল প্রার্থীকে বিবেচনা করেন, অন্যদিকে ৩৩.২ শতাংশ ভোটার প্রার্থী ও দল উভয়কেই বিবেচনায় নেন।
তথ্য পাওয়ার উৎস
রাজনৈতিক তথ্য ও খবর জানার ক্ষেত্রে টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রধান উৎস হিসেবে কাজ করছে। বেশিরভাগ ভোটার একাধিক সূত্র ব্যবহার করেন।
নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা
ভোটারদের মধ্যে ভো’\ট’\কে’\ন্দ্রে নিরাপত্তা, ব্যালট দখল, জা’\লি’\য়া’\তি, ও ভ’\য়’-ভীতির আশঙ্কা বিরাজমান। নির্বাচন ব্যবস্থার চেয়ে ভো’\ট’\কে’\ন্দ্রে নিরাপত্তা নিয়েই বেশি উদ্বিগ্ন তারা।
দলীয় অবস্থানে বড় পরিবর্তন
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ফলাফল—পূর্বের আওয়ামী লীগপন্থী ভোটারের ৪৮ শতাংশ এখন বিএনপির দিকে ঝুঁকেছেন। বাকি ৫২ শতাংশ ভোটার অন্য প্রার্থী বা দলকে সমর্থনের কথা জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, ২০০৮ সালের পর প্রথমবারের মতো ভোট দিতে যাওয়া তরুণ ভোটারদের মধ্যে ৩৭.৪ শতাংশ জামায়াতকে সমর্থন করছেন।
এই জরিপ রাজনীতিতে তরুণদের ভূমিকাও ইঙ্গিত করছে, যেখানে নেতৃত্বের দায়িত্বশীলতা ও সুশাসনের প্রতিশ্রুতি হয়ে উঠছে মূল বিবেচ্য।


