লক্ষ্মীপুরে ব্যালট পেপারে অবৈধভাবে সিল বানানোর ঘটনায় আটক ব্যবসায়ী সোহেল রানা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। তার স্বীকারোক্তিতে উঠে এসেছে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামী (Bangladesh Jamaat-e-Islami) নেতা শরিফ হোসেন সৌরভের নাম । আটক সোহেল সদর উপজেলার টুমচর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের টুমচর গ্রামের খোরশেদ আলমের ছেলে ও জেলা শহরের পুরাতন আদালত সড়কের ‘মারইয়াম প্রিন্টার্সের’ স্বত্বাধিকারী এবং মামলা অপর আসামি শরীফ লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি ও দক্ষিণ বাঞ্চানগর এলাকার মো. শাজাহানের ছেলে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে সদর মডেল থানায় পুলিশ বাদী হয়ে সোহেলসহ আরও একজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। সোহেলকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।
জামায়াত–বিএনপির পাল্টাপাল্টি বক্তব্য
সোহেলের স্বীকারোক্তিতে জামায়াত নেতার নাম আসার পর রাজনীতিতে তৈরি হয় চাঞ্চল্য। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাতেই বিএনপি ও জামায়াত পৃথকভাবে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি দাবি করেন, আটক সোহেল জামায়াতের কর্মী এবং সিলকাণ্ডের সঙ্গে দলটির সম্পৃক্ততা রয়েছে।
পাল্টা বক্তব্যে একই আসনের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ও জামায়াত ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি রেজাউল করিম বলেন, সোহেলের সঙ্গে জামায়াতের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই, সে জামায়াতের কেউ নয়।
কোথা থেকে ও কীভাবে আটক
সোহেল রানা সদর উপজেলার টুমচর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের টুমচর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি জেলা শহরের পুরাতন আদালত সড়কে অবস্থিত মারইয়াম প্রিন্টার্সের মালিক।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার বিকেলে তার দোকানে অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানকালে ১৬ ঘর বিশিষ্ট ৬টি ভুয়া ভোট সিল, একটি কম্পিউটার ও একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। এরপরই তাকে আটক করে থানায় নেওয়া হয় এবং রাতেই মামলা দায়ের করা হয়।
ঘটনার পর নির্বাচন ঘিরে ভোট জালিয়াতির আশঙ্কা ও রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়তে শুরু করেছে। সোহেলের জবানবন্দিতে নাম আসা জামায়াত নেতা শরিফ হোসেন সৌরভ এই ঘটনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছেন বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।


