“নির্বাচনী পরিবেশ তুলনামূলকভাবে ভালো” — নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদের মূল্যায়ন

তরতাজা উত্তেজনার মধ্যেও আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে দেশের নির্বাচন পরিস্থিতি ‘সন্তোষজনক ও তুলনামূলকভাবে ভালো’ বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ (Abdur Rahmanel Mahmud)। নির্বাচনকে ঘিরে এখন বাকি মাত্র আট দিন।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশনের মূল্যায়নে পরিবেশ মোটামুটি ভালো। রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা পেলে আমরা একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে পারব।”

আচরণবিধি ও মাঠ পর্যায়ের নজরদারি

নির্বাচন সংক্রান্ত আচরণবিধি ভঙ্গ, আইনশৃঙ্খলা অবনতি ও পাল্টাপাল্টি রাজনৈতিক বক্তব্যের প্রেক্ষিতে তিনি জানান, দেশজুড়ে ৩০০ জন বিচারকের নেতৃত্বে গঠিত ৩০০টি ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি ও এডজুডিকেশন কমিটি কাজ করছে। পাশাপাশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছেন।

তিনি বলেন, “যেকোনো আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ সংশ্লিষ্ট কমিটিতে দাখিল করা যাবে। তদন্ত শেষে রিপোর্ট কমিশনে জমা পড়বে এবং কমিশন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।”

কমিশনার আরও জানান, এর আগেও বেশ কিছু ক্ষেত্রে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা আইনানুগভাবে জরিমানা বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। এমনকি কোনো নির্বাচনী কর্মকর্তা আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

বাহিনীর সঙ্গে দুর্ব্যবহারে কী পদক্ষেপ?

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে প্রার্থীদের আচরণ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “বিষয়গুলো ঘটনা ও প্রেক্ষাপটভেদে মূল্যায়ন করতে হবে। এককভাবে কিছু বলা যাবে না। প্রতিটি কেস আলাদাভাবে বিবেচনা করা হবে।”

সম্প্রতি ঢাকা-১৭ আসনে একজন প্রার্থীর সেনাবাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, “এটি একটি তদন্তসাপেক্ষ বিষয়। কেউ ক্ষুব্ধ হলে ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি ও এডজুডিকেশন কমিটির কাছে অভিযোগ দিতে পারেন। যদি প্রমাণ মেলে, কমিশন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।”

শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত

সংবাদ সম্মেলনে শেরপুর-৩ আসনে জা’\মা’\য়া’\ত মনোনীত প্রার্থীর মৃত্যুর বিষয়েও কথা বলেন ইসি আব্দুর রহমানেল মাছউদ। তিনি জানান, “আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির আগে ওই আসনে ভোটগ্রহণ সম্ভব নয়। নতুন তফসিল ঘোষণার জন্য অন্তত ১৫ দিনের সময় লাগে। এর সঙ্গে আপিল ও স্ক্রুটিনের বিষয়ও রয়েছে। তাই এখনই নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না কবে নির্বাচন হবে।”

এদিন সকাল ১১টায় নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নির্বাচনী কার্যক্রমে সমন্বয় বিষয়ক এক গুরুত্বপূর্ণ সভাও অনুষ্ঠিত হয়। সভায় চারজন নির্বাচন কমিশনার উপস্থিত ছিলেন। সেখানেও নির্বাচনের সর্বশেষ প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়।

ইসি কমিশনারের মতে, যত চ্যালেঞ্জই থাকুক না কেন, সব পক্ষের সমন্বিত সহযোগিতা থাকলে একটি গ্রহণযোগ্য, শান্তিপূর্ণ ও অবাধ নির্বাচন সম্ভব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *