বিএনপি প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন জামায়াত জোটের আরেক প্রার্থী

জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ফরিদপুর-৪ আসনের প্রার্থী মিজানুর রহমান মোল্লা। একই সঙ্গে তিনি বিএনপির প্রার্থী শহীদুল ইসলাম খান বাবুলের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে মোবাইল ফোনে ‘আমার দেশ’-কে বিষয়টি নিশ্চিত করেন তিনি নিজেই।

মিজানুর রহমান মোল্লা জানান, ফরিদপুর-৪ আসনে চলমান রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্যের স্বার্থ বিবেচনা করেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি নির্বাচনী মাঠ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি এবং এই আসনে বিএনপির প্রার্থী শহীদুল ইসলাম খান বাবুলকে সমর্থন করছি। ভোটের মাঠে আমি আর সক্রিয় থাকব না।”

তার এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে ফরিদপুরের তিনটি উপজেলায় দীর্ঘদিনের আলোচনা-অনিশ্চয়তার অবসান ঘটে। এর আগে তার সরে দাঁড়ানো এবং সমর্থন নিয়ে নানা কথাবার্তা চললেও এবার সরাসরি বক্তব্যের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত হলো।

মিজানুর রহমান মোল্লা আরও জানান, তার দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ইসলামিক ঐক্য জোটের অংশীদার। জোটগত সিদ্ধান্ত এবং রাজনৈতিক সমঝোতার ভিত্তিতেই তিনি এই অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেন, “নির্বাচনে থাকলে জোটের ভেতরের প্রার্থীদের সঙ্গে সমন্বয়ের প্রশ্ন আসে। সে কারণেই আমি নিরপেক্ষতা বজায় রেখে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছি।”

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-৪ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে মিজানুর রহমান মোল্লাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। একই আসনে জামায়াতের ঘোষিত প্রার্থী হিসেবে ভাঙা উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা সরোয়ার হোসেনও নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী শহীদুল ইসলাম খান বাবুল পুলিয়া বাজার এলাকায় গণসংযোগে অংশ নেন। গণসংযোগ চলাকালে মিজানুর রহমান মোল্লার সঙ্গে তার সৌজন্য সাক্ষাৎ ও একান্ত আলোচনা হয়। ওই বৈঠকের পরপরই মিজানুর রহমান মোল্লা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন এবং বিএনপি প্রার্থীর প্রতি সমর্থন জানান।

এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেন সেলিম বলেন, “দুই নেতার সাক্ষাতের বিষয়টি আমরা জেনেছি। মিজানুর রহমান মোল্লা যেহেতু নিজেই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়ে আমাদের প্রার্থীর প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন, এটি নিঃসন্দেহে বিএনপির জন্য ইতিবাচক।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *