বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান জানিয়েছেন, জুলাই সনদের অনেক বিষয়ই বিএনপির উত্থাপিত ৩১ দফার অন্তর্ভুক্ত। তারই একটা ‘১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী নয়’ এই প্রস্তাবটি। তারেক রহমান জানান, এই প্রস্তাবটি বহু আগেই বিএনপি উত্থাপন করেছে।
তিনি আরও জানান, আসছে ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে দলটি ক্ষমতায় এলে জুলাই সনদ ও বিএনপির ৩১ দফা বাস্তবায়ন করবে। আজ রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে দলের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণাকালে এই অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমাদের রাষ্ট্র ব্যবস্থার মধ্যে বেশ কিছু সংস্কার প্রয়োজন আছে। সংস্কার কমিশনে বেশ কিছু আলোচনা হয়েছে, সেখানে যে আলোচনা হয়েছে, তার অনেক কিছুই আমরা বহু বছর আগে, প্রায় দুই-আড়াই বছর আগে জাতির সামনে উপস্থাপন করেছি।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘এখানে আমরা প্রথমেই নিয়ে এসেছি ৩১ দফা বা জুলাই সনদের বাস্তবায়ন। আমরা যখন প্রথম ৩১ দফা বা ২০৩০ ভিশন উপস্থাপন করেছিলাম, তখন জুলাই সনদের বিষয়টি ছিল না। যেহেতু এটি আমাদের দেশ ও জাতির জন্য একটি খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, সেহেতু এটিকে আমরা সামনে নিয়ে এসেছি। আমাদের জাতি গঠন ও গণতন্ত্রের ভিত্তিকে যদি শক্তিশালী করতে হয়, আমরা বিশ্বাস করি যে ৩১ দফা ও জুলাই সনদের যে বিষয়টি আছে, তা আমরা অবশ্যই বাস্তবায়ন করব। জুলাই সনদের যে বিষয়গুলো আছে, তার সঙ্গে আমাদের ৩১ দফার অনেকগুলো বিষয়ের মিল আছে।’
ইশতেহারের সাংবিধানিক সংস্কারের অংশটি ব্যখ্যা করতে গিয়ে তারেক রহমান জানান, ‘১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী নয়’ এই প্রস্তাবটি প্রথম বিএনপিই দিয়েছিল। তিনি বলেন, ‘আমাদের ৩১ দফার মাধ্যমে আমরা অনেক আগেই একটি প্রস্তাব জাতির সামনে উপস্থাপন করেছিলাম যে, প্রস্তাবটি হলো— প্রধানমন্ত্রী যিনি হবেন, তার মেয়াদ ১০ বছরের বেশি হবে না। পরবর্তীতে সরকার কর্তৃক গঠিত সংস্কার কমিশনে বিষয়টি অন্যান্য অনেক দল আলোচনা করেছে। তবে এই প্রস্তাবটি সবার আগে উপস্থাপন করেছিল বিএনপিই।’
তারেক রহমান জানান যে, সরকার গঠন করলে বিএনপি এই বিষয়ে আইন প্রবর্তন করবে। তিনি বলেন, ‘আমরা সরকার গঠন করলে অবশ্যই বিষয়টি আইনের মধ্যে প্রবর্তন করব যে, একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাজ করতে পারবেন।’


