মাহফুজ আলমদের নতুন প্ল্যাটফর্ম অল্টারনেটিভস-এর যাত্রা শুরু

জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও প্রশ্ন শোনা এবং তা বোঝার লক্ষ্যে গঠিত রাজনৈতিক সংলাপভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম অলটারনেটিভস প্রথম কর্মসূচি হিসেবে ‘জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশ: আমাদের ব্যর্থতা ও নতুন দিনের দিশা’ শীর্ষক একটি আলোচনা সভার আয়োজন করে। শনিবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোজাফফর আহমদ চৌধুরী মিলনায়তনে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম মূল বক্তব্য প্রদান করেন। তার বক্তব্যে তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান বাংলাদেশকে রাষ্ট্র পুনর্গঠন, রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক কাঠামো সংস্কার এবং দীর্ঘদিনের বৈষম্য ও নিপীড়নের সংস্কৃতি ভাঙার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ এনে দিয়েছিল। তবে কিছু আংশিক সংস্কার ছাড়া কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন বাস্তবায়িত হয়নি; পুরোনো বন্দোবস্তই নতুন রূপে ফিরে এসেছে।

তিনি জুলাই-পরবর্তী সময়ের রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক ব্যর্থতার একটি ধারাবাহিক বিশ্লেষণ তুলে ধরে বলেন, বিপ্লবোত্তর সময়ে সুস্পষ্ট লক্ষ্য, কাঠামোগত নেতৃত্ব এবং জনগণের সঙ্গে জবাবদিহিমূলক সম্পর্ক গড়ে তুলতে ব্যর্থ হওয়াই এই সংকটকে গভীর করেছে। বিচারহীনতা, বৈষম্যের ধারাবাহিকতা, পুরোনো প্রশাসনিক ও পুলিশি কাঠামোর টিকে থাকা, শিক্ষাব্যবস্থার ভাঙন এবং কর্মসংস্থানের সংকট—সব মিলিয়ে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

মূল বক্তব্যে আরও বলা হয়, সংকট থেকে উত্তরণের পথ জনগণের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন সংলাপ, আত্মসমালোচনা এবং বৃহত্তর সামাজিক-রাজনৈতিক সংহতি গড়ে তোলার মধ্য দিয়েই সম্ভব। জুলাই প্রজন্মের রাজনৈতিক শিক্ষাদান, তরুণদের আকাঙ্ক্ষা, হতাশা ও প্রশ্ন শোনা, শ্রমিক-কৃষক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক মুক্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

আয়োজকরা জানান, অল্টারনেটিভস একটি রাজনৈতিক সংলাপভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের কথা শোনা, প্রশ্ন বোঝা এবং সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নতুন রাজনৈতিক ও সামাজিক ভাবনা নির্মাণের লক্ষ্যে কাজ করবে। এই আলোচনা সভার মাধ্যমে সেই যাত্রার সূচনা হলো।

মূল আলোচনার পর অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে ডাঃ তাজনুভা জাবীনের সঞ্চালনায় রেজওয়ান আহমদে রিফাত, মহিদুল ইসলাম দাউদ, জাহিন ফারুক আমিন এবং মাহফুজ আলম সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কমিউনিটি নেতা, ছাত্রনেতা, বুদ্ধিজীবী ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দ। প্রশ্নোত্তর পর্বে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল—কেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া মানুষ রাজনৈতিকভাবে প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জনে ব্যর্থ হলো এবং কীভাবে জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করে নতুন ধরনের রাজনৈতিক সংহতি তৈরি করা যেতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *