নির্বাচনের ঠিক আগে লাল পাসপোর্ট জমা দিলেন ঢাবি উপাচার্য নিয়াজ আহমদ, ঘোষণা দিলেন পদত্যাগের

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (VC) অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান (Dr. Niaz Ahmed Khan) নির্বাচনের মাত্র চার দিন আগে তাঁর কূটনৈতিক লাল পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দায়িত্ব পাওয়া এই উপাচার্য এরই মধ্যে পদত্যাগের ঘোষণাও দিয়েছেন। এমন সময়ে তাঁর এই তড়িঘড়ি পদক্ষেপকে ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

বিশেষ সূত্র জানিয়েছে, অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খানকে শুরুতে ডেনমার্কে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগের আলোচনা চলছিল। পরে সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ইরানকে বিবেচনায় নেওয়া হয়। তবে ইরানের অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে শেষ পর্যন্ত তিনি সেখানে যাননি। আর এর মধ্যেই তিনি ভিসি পদ থেকেও সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।

সাধারণত কূটনৈতিক পাসপোর্ট দায়িত্বকালীন সময়ে বিশেষ সুবিধা দেয়, এবং দায়িত্ব শেষ হলে তা ফেরত দিতে হয়। তবে নিয়াজ আহমদের ক্ষেত্রে লাল পাসপোর্ট জমা দিয়ে সাধারণ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করা হয়েছে এমন এক সময়ে, যখন নির্বাচন শেষের অপেক্ষায় রয়েছে দেশ এবং নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া চলমান। অনেকেই মনে করছেন, এই সময়সীমায় পাসপোর্ট জমা দেওয়ার বিষয়টি একধরনের রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক সংকেত বহন করতে পারে।

সূত্রমতে, ইতোমধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের অন্তত ১৫ জন উপদেষ্টাও একইভাবে তাঁদের লাল পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন এবং সাধারণ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেছেন।

এর আগে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বেলা ৩টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. নিয়াজ আহমদ খান এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কার্যালয়ের সংলগ্ন অধ্যাপক আব্দুল মতিন চৌধুরী ক্লাসরুমে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “ডেপুটেশন থেকে আমি অব্যাহতি চাইবো। আমার মূল কাজ উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগে শিক্ষকতা, সেখানেই ফিরে যেতে চাই।”

তিনি বলেন, “আমি সরে দাঁড়াতে চাই এই কারণে যে, আমি একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নিয়েছিলাম। এটিকে আমি কখনোই নিয়মিত চাকরি হিসেবে দেখিনি। উপাচার্যের দায়িত্বটা ছিল আমার কাছে একটি আমানতের মতো। ছাত্ররা ভালোবেসে দায়িত্ব দিয়েছিল, সেই দায়িত্ব আমি যথাসম্ভব পালন করেছি।”

তবে দায়িত্বের ধারাবাহিকতার প্রশ্নে তিনি জানান, “বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মুথ ট্রানজিশনের স্বার্থে সরকার বা সংশ্লিষ্ট অংশীদাররা যদি চান, তাহলে আমি কিছু সময় থেকে যেতে প্রস্তুত।”

উপাচার্য আরও বলেন, “আমরা এখন সারা দেশের মতোই অপেক্ষা করছি একটি নিয়মিত রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব নেবে এবং আমরা তাদের পূর্ণ সহযোগিতা করবো।”

নিয়াজ আহমদের এই পদত্যাগ এবং লাল পাসপোর্ট জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেশীয় প্রশাসনিক প্রেক্ষাপটে এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *