ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাকে সমর্থন দিয়েছে জাতীয় পার্টি। গত সোমবার রাত ১১টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুরে রুমিন ফারহানা এবং জাতীয় পার্টির নেতারা যৌথ সংবাদ সম্মেলন করে এ ঘোষণা দেন। সংবাদ সম্মেলনে রুমিন ফারহানা ছাড়াও জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ ভাসানী উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী আমার নেতা জিয়াউল হক মৃধা মিথ্যা মামলা এবং হুমকির মুখে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। এ অবস্থায় জাতীয় পার্টি একটি সুযোগ পেয়েছে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও প্রতিদান দেওয়ার। জাতীয় পার্টি সুযোগটি কাজে লাগাতে চায়। দলের মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী নির্দেশ দিয়েছেন জাতীয় পার্টির সব নেতা যেন রুমিন ফারহানার পক্ষে কাজ করেন।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আব্দুল হামিদ বলেন, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার পক্ষে কেন কাজ করব! প্রধান কারণ হলো ৫ আগস্টের পর জাতীয় পার্টির ওপর একদল লোক বারবার অগ্নিসংযোগ করেছে। এ অগ্নিসংযোগের প্রথম প্রতিবাদ জানিয়েছেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তিনি বলেছেন, ‘কারও বাড়িতে, অফিসে আগুন দেওয়া অন্যায়’ পরবর্তী সময়ে যখন আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার দাবি উঠেছে উনি প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছেন ‘রাজনীতি করা এই দেশের নাগরিক অধিকার। কারও অধিকার হরণ করা যাবে না।’
আওয়ামী লীগের দোসর তকমা দিয়ে জাতীয় পার্টির রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবি যখন উঠেছে, তখন রুমিন ফারহানা বলেছেন, ‘জাতীয় পার্টি একটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল, তারা কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নয়, বিনা কারণে নিষিদ্ধ করা যাবে না।’
রুমিন ফারহানা বলেন, এরই মধ্যে আপনারা জেনেছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী নির্বাচন করবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় পার্টি দলগতভাবে হাঁস প্রতীককে সমর্থন দিতে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই সিদ্ধান্ত জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ ভাসানী উপস্থিত থেকে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দেশবাসীকে জানানোর জন্য আয়োজন করা। নির্বাচিত হওয়ার পর জাতীয় পার্টিতে যোগদান করবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে রুমিন ফারহানা বলেন, এই বিষয়ে এত আগে আমি বলতে পারব না। আগে আমাকে নির্বাচন করতে হবে, জয়যুক্ত হতে হবে, তারপর সিদ্ধান্ত। আপাতত আমাদের সামনে ১২ তারিখে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এ নির্বাচনে যাতে কোনোভাবেই পেশিশক্তি, কালো টাকা, ভয়ভীতি এবং হুমকি-দমকির কারণে কোনো যোগ্য প্রার্থী ভোটারের ভোট থেকে যেন বঞ্চিত না হয়।


