১৮ মাস পর নিজ কর্মস্থলে ড. মুহাম্মদ ইউনূস, ইউনূস সেন্টারে ফের প্রাণচাঞ্চল্য

দীর্ঘ ১৮ মাসের বিরতির পর নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস (Muhammad Yunus) আবারও তার কর্মস্থলে ফিরেছেন। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঢাকার মিরপুরের টেলিকম ভবনে অবস্থিত ইউনূস সেন্টার (Yunus Centre)-এ পৌঁছালে দীর্ঘদিনের সহকর্মীরা তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। উপস্থিত কর্মকর্তারা বলেন, তার অনুপস্থিতির পুরো সময়জুড়ে তারা সমন্বিত ও দিকনির্দেশনামূলক নেতৃত্বের অভাব অনুভব করছিলেন।

কর্মস্থলে ফিরে ড. ইউনূস প্রথমেই সেন্টারের বিভিন্ন শাখার কর্মকর্তা ও কর্মীদের সঙ্গে পরিচিতি ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এরপর তিনি গ্রামীণ পরিবার (Grameen Family)-এর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং উপদেষ্টা দলের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। বৈঠকে চলমান কার্যক্রম, বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

দীর্ঘ ১৮ মাসের বিরতির কারণে কিছু প্রকল্প সীমিত আকারে পরিচালিত হয়েছে, আবার কিছু কার্যক্রম ছিল স্থগিত। তবে তার প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে সেসব উদ্যোগ নতুন করে গতি পাবে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের। আলোচনায় প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সূচি, কাঠামোগত সমন্বয় এবং কার্যক্রম পুনরুজ্জীবনের কৌশল নিয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

কর্মীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ড. ইউনূস বলেন, “আমাদের লক্ষ্য মানুষের জীবনমান উন্নয়ন। প্রতিটি কার্যক্রমই জনগণের কল্যাণে নিবেদিত। সক্রিয় সহযোগিতা আমাদের লক্ষ্য পূরণে সহায়ক হবে। সুবিন্যস্ত পরিকল্পনা এবং সময়মতো বাস্তবায়ন ছাড়া কোনো সামাজিক পরিবর্তন সম্ভব নয়।” তার বক্তব্যে দায়িত্ববোধ, শৃঙ্খলা ও সমন্বিত প্রয়াসের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।

কর্মীরা জানান, ড. ইউনূসের সরাসরি উপস্থিতি তাদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম, নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং সামাজিক ব্যবসা—এই তিনটি ক্ষেত্রেই তার দিকনির্দেশনা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে বলে তারা মনে করছেন। তার নেতৃত্বে নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের গতি বাড়বে—এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন অনেকে।

বৈঠকের শেষ পর্যায়ে ড. ইউনূস সেন্টারের দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে একান্ত বৈঠকে বসে প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং সমস্যা সমাধানের সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন।

তার পুনরায় নেতৃত্ব গ্রহণ কেবল ইউনূস সেন্টারের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমেই নতুন প্রাণসঞ্চার করেনি; বরং গ্রামীণ পরিবারের সামাজিক ও আর্থিক উদ্যোগেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে কর্মকর্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তাদের বিশ্বাস, তার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে চলমান প্রকল্পগুলো আরও ত্বরান্বিত হবে এবং নতুন উদ্যোগ গ্রহণের জন্য একটি শক্ত ও সুসংহত ভিত্তি তৈরি হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *