গলফ কারে স্বজনদের যাতায়াত: কাশিমপুর কারাগারে ভোগান্তি কমাতে নতুন উদ্যোগ

কিছুদিন আগেও কাশিমপুর কারাগার (Kashimpur Prison)–এ বন্দীদের সঙ্গে দেখা করতে গেলে স্বজনদের পোহাতে হতো চরম দুর্ভোগ। মূল ফটক থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে সাক্ষাৎ কক্ষ পর্যন্ত পৌঁছাতে অনেকেই রিকশার ওপর নির্ভর করতেন, আর রিকশা না মিললে হেঁটেই যেতে হতো দীর্ঘ পথ। বিশেষ করে বয়স্ক কিংবা নারী স্বজনদের জন্য এই পথ পাড়ি দেওয়া ছিল বেশ কষ্টসাধ্য।

রিকশার স্বল্পতা ছিল নিত্যদিনের চিত্র। সুযোগ বুঝে কিছু চালক অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতেন বলেও অভিযোগ ছিল। ফলে কারাবন্দীদের দেখতে আসা পরিবার-পরিজনদের শুধু মানসিক চাপই নয়, আর্থিক চাপও নিতে হতো। দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকা, অনিশ্চয়তা আর নিরাপত্তা শঙ্কা—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ছিল বেশ অস্বস্তিকর।

এই বাস্তবতা বিবেচনায় এনে কারা কর্তৃপক্ষ ভেতরে গলফ কার চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। কারাগারের অভ্যন্তরে যাতায়াত সহজ ও নিরাপদ করতে ইতোমধ্যে এই ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে। এতে করে বন্দীদের সঙ্গে দেখা করতে আসা স্বজনদের ভোগান্তি অনেকটাই কমেছে বলে জানা গেছে।

কারাবন্দীদের স্বজনেরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, আগে যেখানে কারাগারের ভেতরে প্রবেশের পরও গন্তব্যে পৌঁছাতে দুশ্চিন্তা থাকত, এখন সেখানে নির্দিষ্ট ব্যবস্থায় দ্রুত যাতায়াত সম্ভব হচ্ছে।

কাশিমপুর কারাগার-২ (Kashimpur Prison-2)–এর সিনিয়র জেল সুপার আল মামুন (Al Mamun) জানিয়েছেন, কারা কল্যাণ তহবিলের অর্থায়নে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য, বন্দীদের স্বজনদের ভোগান্তি কমানো এবং একই সঙ্গে কারাগারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই ছিল এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য।

বর্তমানে গাজীপুর (Gazipur)–এর কাশিমপুর কারাগারের ভেতরে মোট চারটি গলফ কার চলাচল করছে। এর মধ্যে একটি ১২ আসনের এবং তিনটি ৮ আসনের। নির্ধারিত ব্যবস্থাপনায় এসব যানবাহন ব্যবহার করে স্বজনরা সহজেই সাক্ষাৎ স্থানে পৌঁছাতে পারছেন।

কারা কর্তৃপক্ষ মনে করছে, এই পদক্ষেপ শুধু স্বজনদের ভোগান্তি কমায়নি, বরং ভেতরের চলাচলকে আরও সুশৃঙ্খল ও নিয়ন্ত্রিত করেছে। ফলে নিরাপত্তা ও মানবিক দিক—দুটোই একসঙ্গে নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *