১০ মার্চ শুরু ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ, কীভাবে পাবেন জানাল সরকার

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে আরেক ধাপ এগোচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (Bangladesh Nationalist Party)। সরকার গঠনের পর অগ্রাধিকারভিত্তিতে ঘোষিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হচ্ছে আগামী ১০ মার্চ। ওই দিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Tarique Rahman) এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং এক বার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। জানানো হয়েছে, প্রাথমিকভাবে দেশের ১৩টি জেলায় একটি করে ওয়ার্ডে পরীক্ষামূলকভাবে এই কার্ড বিতরণ করা হবে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, ধাপে ধাপে এর পরিসর বাড়ানো হবে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ে ধারাবাহিক কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় নিউমুরিং টার্মিনাল ইস্যুতে একটি সভা শুরু হয়। এরপর দুপুর ১২টায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য প্রশাসনিক প্রস্তুতি জোরদার করা হচ্ছে।

সরকারি সূত্র জানায়, ঈদের আগেই হতদরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর হাতে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ উদ্দেশ্যে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি সরকার একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকার (Government of Bangladesh) প্রান্তিক ও নিম্ন-আয়ের পরিবারকে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনতে ‘ফ্যামিলি কার্ড প্রদানসংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’ গঠন করেছে।

অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী (Amir Khasru Mahmud Chowdhury) কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তার নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের এই কমিটিতে রয়েছেন— সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা মাহদী আমিন, উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, মন্ত্রিপরিষদসচিব, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিব, অর্থসচিব, তথ্যসচিব, স্থানীয় সরকার সচিব, পরিকল্পনাসচিব ও সমাজকল্যাণ সচিব।

আবেদন প্রক্রিয়া ও তথ্যভিত্তিক যাচাই

সরকার জানিয়েছে, একটি কেন্দ্রীয় ডেটাবেস তৈরি করা হবে, যেখানে জাতীয় পরিচয়পত্রের ভিত্তিতে প্রতিটি পরিবারের তথ্য সংরক্ষণ থাকবে। এর মাধ্যমে সহায়তা বিতরণে অনিয়ম ও মধ্যস্থতা কমিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে কার্যক্রম শুরু হলেও পরবর্তীতে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে উপকারভোগীদের তালিকা প্রণয়ন করে সারা দেশে তা সম্প্রসারণ করা হবে।

আবেদন করতে যা লাগবে

যদিও পূর্ণাঙ্গ আবেদন প্রক্রিয়া এখনো শুরু হয়নি, তবু আগাম প্রস্তুতির জন্য নাগরিকদের তিনটি কাগজ সংগ্রহে রাখতে বলা হয়েছে। সেগুলো হলো—

  • আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)
  • পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি
  • একটি সচল মোবাইল নম্বর

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত সময় ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত নির্দেশনা শিগগিরই প্রকাশ করা হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *