২০০৯ সালের পিলখানার রক্তাক্ত হ’\ত্যা’\কা’\ণ্ডে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জনকে নৃশংসভাবে হ’\ত্যা করার ঘটনার প্রেক্ষিতে গঠিত স্বাধীন তদন্ত কমিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন অবিলম্বে জনসম্মুখে প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন শহীদ পরিবারের সদস্যরা। তাদের অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকার কমিশনের প্রতিবেদন হাতে পেলেও এখনো তা প্রকাশ না করায় রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে। স্বজনদের আশঙ্কা—অদৃশ্য কোনো শক্তির চাপেই হয়তো এই প্রতিবেদন আটকে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে তারা দায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃশ্যমান বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার দাবি জানিয়েছেন।
২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পিলখানা (Pilkhana)-এ তৎকালীন বিডিআর সদর দপ্তরে যে হ’\ত্যা’\যজ্ঞ সংঘটিত হয়, তা দেশের সামরিক ইতিহাসে এক গভীর ক্ষত হিসেবে রয়ে গেছে। ওই ঘটনায় ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন প্রাণ হারান। দীর্ঘ ১৭ বছর পেরিয়ে গেলেও শহীদদের পরিবার আজও পূর্ণাঙ্গ ও গ্রহণযোগ্য বিচারের প্রত্যাশায় প্রহর গুনছেন।
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে এই হ’\ত্যা’\কা’\ণ্ডের প্রকৃত চিত্র উদঘাটনে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়। টানা ১১ মাস অনুসন্ধান ও তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণের পর কমিশন তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। কিন্তু জমা দেওয়ার দুই মাস অতিক্রান্ত হলেও তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি—যা নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
প্রতিবেদনে এই হ’\ত্যা’\কা’\ণ্ডের পেছনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina) এবং আওয়ামী লীগ (Awami League)-এর কয়েকজন নেতার নাম উঠে এসেছে বলে জানা গেছে। সমন্বয়কারী হিসেবে ফজলে নূর তাপস (Fazle Noor Taposh)-এর নামও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। তদন্তে বলা হয়েছে, এই হ’\ত্যা’\কা’\ণ্ডের মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে দুর্বল করে দেওয়া। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, এই ঘটনার ফলে ভারত (India) কৌশলগতভাবে সুবিধা পেয়েছে।
তদন্ত কমিশন আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে। কেন ঘটনাটি সামরিকভাবে মোকাবিলা করা হয়নি? কেন বিদ্যমান সামরিক শক্তি ব্যবহার করা হলো না? কেন রাজনৈতিক সমাধানের পথ বেছে নেওয়া হয়েছিল? প্রশাসনের ভূমিকা কী ছিল? পুলিশ, র্যাব ও ডিজিএফআইসহ অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার কার্যক্রম কতটা সক্রিয় ছিল?—এসব বিষয়ও প্রতিবেদনে বিশদভাবে আলোচিত হয়েছে বলে জানা যায়।
তবে শহীদ পরিবারের সদস্যদের মতে, এত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসমৃদ্ধ একটি প্রতিবেদন জাতির সামনে প্রকাশ না করা হলে সত্য আড়ালেই থেকে যাবে। তাদের ভাষায়, “প্রতিবেদন যদি জাতির সামনে না আসে, তাহলে ১৭ বছরের অপেক্ষা অর্থহীন হয়ে পড়বে।” তারা মনে করছেন, প্রতিবেদনের বিষয়বস্তু প্রকাশে গড়িমসি করার পেছনে প্রভাবশালী মহলের চাপ থাকতে পারে।
স্বজনরা শুধু প্রতিবেদন প্রকাশই নয়, দায়ীদের দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করারও জোর দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি ২৫ ফেব্রুয়ারিকে ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে বর্তমানে যে ‘সি’ গ্রেডে রাখা হয়েছে, তা ‘এ’ গ্রেডে উন্নীত করে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘শোক দিবস’ ঘোষণার দাবি তুলেছেন তারা। শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের নামের গেজেট প্রকাশের বিষয়টিও দ্রুত সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবারগুলো।
দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও পিলখানার সেই হ’\ত্যা’\কা’\ণ্ডের রক্তাক্ত স্মৃতি আজও অমলিন। আর তাই স্বজনদের প্রশ্ন—সত্য উদঘাটনে আর কত দেরি?


