পিলখানার হত্যাকাণ্ডে নতুন কমিশন নয়, আগের সুপারিশ বাস্তবায়নের ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

পিলখানার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নতুন করে কোনো তদন্ত কমিশন গঠন করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন সালাহউদ্দিন আহমদ (Salahuddin Ahmed)। বুধবার জাতীয় শহীদ সেনা দিবস (National Martyred Army Day) উপলক্ষে বনানী কবরস্থান (Banani Graveyard)-এ পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ অবস্থানের কথা জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় গঠিত স্বাধীন জাতীয় তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে যে সুপারিশগুলো দেওয়া হয়েছে, সেগুলোই ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। নতুন কমিশন গঠনের কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।

শহীদ পরিবার ও জাতির উদ্দেশে আশ্বাস উচ্চারণ করে তিনি বলেন, পিলখানার হত্যাকাণ্ডের যথাযথ ও ন্যায়সঙ্গত বিচার নিশ্চিত করা হবে। বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মন্ত্রী জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে গঠিত স্বাধীন ও দক্ষ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে জাতীয় তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন ইতোমধ্যে সরকারের হাতে এসেছে। তবে এতদিন সেই প্রতিবেদনের সুপারিশ বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নিজের আগের বক্তব্য প্রসঙ্গে ব্যাখ্যা দিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “কয়েকদিন আগে পুরো প্রতিবেদন পর্যালোচনা না করেই আমি কিছু মন্তব্য করেছিলাম। আজ সে বিষয়ে সংশোধন করে বলতে চাই, আমরা নতুন করে কোনো তদন্ত কমিশন গঠন করব না। যেহেতু ইতোমধ্যে একটি স্বাধীন, যোগ্য ও দক্ষ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে জাতীয় তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছিল, সেই কমিশনের সুপারিশই বাস্তবায়ন করা হবে।”

তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে দেখা গেছে প্রতিবেদনে প্রায় ৭০টি সুপারিশ রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি সুপারিশ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। বিচারাধীন মামলাগুলোর কিছু বর্তমানে আপিল পর্যায়ে আছে এবং বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। পাশাপাশি অন্যান্য সুপারিশও পর্যায়ক্রমে কার্যকর করা হবে বলে জানান তিনি।

শহীদ পরিবার ও জাতিকে আবারও আশ্বস্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পিলখানার হত্যাকাণ্ডের বিচার এমনভাবে সম্পন্ন করা হবে যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে। প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণে সরকার প্রস্তুত রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, পিলখানায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ছিল দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি একটি বড় হুমকি। তাঁর মতে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী (Bangladesh Army)-কে দুর্বল করার লক্ষ্যেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।

তাঁর ভাষায়, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে না কিংবা দেশকে একটি দুর্বল রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চায়, তাদের পক্ষ থেকেই এমন উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের চেষ্টা থাকতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *