কালবৈশাখীর তাণ্ডবে দেশজুড়ে বিপর্যয়, একদিনেই প্রাণ হারালেন ৯ জন

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হঠাৎ নেমে আসা কালবৈশাখী ঝড় যেন মুহূর্তেই ছিন্নভিন্ন করে দিল জনজীবনের স্বাভাবিক ছন্দ। প্রবল ঝড়ো হাওয়া, বজ্রপাত এবং গাছ উপড়ে পড়ার ঘটনায় অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, পাশাপাশি শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) দিনের বিভিন্ন সময়ে এই বিপর্যয়কর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে জামালপুর (Jamalpur) জেলার মেলান্দহ উপজেলার নয়ানগর ইউনিয়নের দাগী গ্রামে। ভোরবেলা হঠাৎ ঝড়ের তাণ্ডবে একটি বিশাল গাছ উপড়ে পড়ে একটি ঘরের ওপর। ঘরের ভেতরে তখন ঘুমিয়ে ছিলেন খুকি বেগম (৯০), তার মেয়ে ফাতে বেগম (৫০) ও ফরিদা বেগম (৪৫)। গাছের ভারে ঘরটি মুহূর্তেই ভেঙে পড়ে এবং ঘটনাস্থলেই তিনজনের জীবনাবসান ঘটে। পরিবারের সদস্যরা জানান, অসুস্থ মাকে দেখতে ঢাকায় থাকা ছোট মেয়ে ফরিদা বাড়িতে এসেছিলেন। সেই রাতেই একসঙ্গে ঘুমানো—আর সেটিই হয়ে ওঠে তাদের শেষ রাত।

একই দিনে বগুড়া (Bogra) জেলার গাবতলী উপজেলায় আরেকটি দুর্ঘটনা ঘটে। ঝড়ে উপড়ে পড়া একটি বটগাছের নিচে চাপা পড়ে পান ব্যবসায়ী উমা চন্দ্র রায় (৫২) মারা যান। একই জেলার সারিয়াকান্দিতে গাছ সরাতে গিয়ে প্রাণ হারান নির্মাণশ্রমিক দিলবর সরদার (৫৫)। ঝড়ের পরও ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে গিয়ে তার এই করুণ পরিণতি হয়।

এদিকে নওগাঁ (Naogaon) জেলার আত্রাই উপজেলায় গাছ ভেঙে পড়ে গুরুতর আহত হন অন্তঃসত্ত্বা নারী আরাফাতুন (২০)। পরে তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল (Rajshahi Medical College Hospital)-এ নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

অন্যদিকে হবিগঞ্জ (Habiganj) জেলাতেও কালবৈশাখীর আঘাতে অন্তত তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যদিও বিস্তারিত পরিচয় এখনো জানা যায়নি।

শুধু প্রাণহানি নয়, ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় ঝড়ে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। গাছ উপড়ে পড়ে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যায়, ভেঙে পড়ে খুঁটি। অন্তত ৫৫টি ঘর আংশিক বিধ্বস্ত হয়েছে এবং দুটি কালভার্ট পুরোপুরি ভেঙে গেছে। পল্লী বিদ্যুতের ১১ কেভি লাইনসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ফলে বহু এলাকা এখনো বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন।

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে এবং তাদের সহায়তায় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে কিছু পরিবারকে আর্থিক সহায়তা ও শুকনো খাবার সরবরাহ করা হয়েছে।

এদিকে আবহাওয়া পরিস্থিতি এখনো স্থিতিশীল নয়। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, ঝড়-বৃষ্টি আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়ার শঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *