কক্সবাজার শহরের কলাতলীতে একটি গ্যাস পাম্পে ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে আগুন ছড়িয়ে পড়ে, মুহূর্তেই আতঙ্কে স্তব্ধ হয়ে যায় পুরো হোটেল-মোটেল জোন। আগুনে আশপাশের বসতঘর পুড়ে যায়, দগ্ধ হন অন্তত ১৫ জন। একই সঙ্গে একটি গ্যারেজে থাকা প্রায় ৩০টি এসি গাড়িও আগুনে সম্পূর্ণরূপে পুড়ে গেছে।
বুধবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে শহরের কলাতলীর পূর্ব পাশে সম্প্রতি চালু হওয়া এন আলম এলপিজি গ্যাসপাম্পে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রথমে পাম্পের ভেতরে হালকা আগুন দেখা যায়। পরে সেটি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পাম্পের ট্যাংক থেকে গ্যাস লিকেজ হয়ে আগুনের সূত্রপাত হয়।
প্রাথমিকভাবে পাম্পের কর্মচারীরা বালু ও পানি ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। কিছু সময়ের জন্য আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলেও মনে হচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। সেই বিস্ফোরণের পর মুহূর্তেই আগুন ভয়াবহ রূপ নেয় এবং চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতায় আশপাশের বাড়িঘর, দোকানপাট ও গ্যারেজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ঘটনার পরপরই বাংলাদেশ সেনাবাহিনী (Bangladesh Army), বিমানবাহিনী, পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স (Fire Service and Civil Defence)-এর নয়টি ইউনিট একযোগে উদ্ধার ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম শুরু করে। টানা প্রায় সাত ঘণ্টার চেষ্টার পর রাত দুইটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
অগ্নিদগ্ধদের মধ্যে ১২ জনকে প্রথমে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল (Cox’s Bazar Sadar Hospital)-এ ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে দগ্ধ ৯ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (Chittagong Medical College Hospital)-এর বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক জানান, এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের তিন কর্মীসহ মোট ১৫ জন দগ্ধ হয়েছেন। পাশাপাশি বেশ কয়েকটি বাড়িঘর এবং গ্যারেজে থাকা ৩০টির বেশি গাড়ি আগুনে পুড়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।


