গণভোটই বার্তা দিচ্ছে—মানুষ পরিবর্তন চায়: ডা. শফিকুর রহমান

নির্বাচনে পরিকল্পিত ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ করা হয়েছে এবং বহু স্থানে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রেখে অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে—এমন গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন ডা. শফিকুর রহমান (Dr. Shafiqul Rahman)। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক নির্বাচনী প্রক্রিয়া দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ইব্রাহিমপুরের মনিপুর উচ্চবিদ্যালয়ে আয়োজিত ইফতারপূর্ব আলোচনা সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে জামায়াতে ইসলামী (Bangladesh Jamaat-e-Islami)-এর আমীর ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা এসব অভিযোগ উত্থাপন করেন। তাঁর ভাষায়, “নির্বাচনের নামে যা হয়েছে, তা জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন নয়।”

তিনি আরও দাবি করেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পাওয়ার পরও বিএনপি (Bangladesh Nationalist Party) ক্ষমতায় আসতে পারেনি। তাঁর মতে, এ ফলাফল প্রমাণ করে নির্বাচনী ব্যবস্থায় গভীর অসংগতি রয়েছে এবং জনগণের রায় যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সাম্প্রতিক গণভোটে ৬৯ শতাংশ ‘হ্যাঁ’ ভোট একটি সুস্পষ্ট বার্তা বহন করে—দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়। তিনি মন্তব্য করেন, এই ফলাফলকে অবহেলা করার সুযোগ নেই; বরং এটি রাজনৈতিক বাস্তবতার শক্ত প্রমাণ।

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, দেশের বহু কেন্দ্রে জামায়াতের এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য রক্তক্ষয় এড়াতে দলীয় কর্মীরা অনেক কেন্দ্র ছেড়ে আসতে বাধ্য হন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলেও সংঘাত এড়ানোর সিদ্ধান্তই তারা নিয়েছিলেন বলে জানান তিনি।

তবে ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর অবস্থান ছিল দৃঢ়। তিনি বলেন, প্রয়োজনে জীবনের বিনিময়ে হলেও মানুষের ভোটাধিকার রক্ষায় তারা রাজপথে ও ভোটকেন্দ্রে দাঁড়াবেন। গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষাকে তিনি নৈতিক ও রাজনৈতিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন।

এ সময় তিনি স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এলাকায় চাঁদাবাজি প্রতিরোধের আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে সংগঠিত নাগরিক প্রতিরোধের প্রয়োজনীয়তার কথাও। তিনি বলেন, জনগণ সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ হলে অন্যায় ও দুর্নীতি টিকতে পারে না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *