নারীদের মর্যাদা, অধিকার ও প্রকৃত ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতেই ফ্যামিলি কার্ডের স্বত্বাধিকার নারীদের নামে প্রদান করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ (Abu Naser Muhammad Rahmatullah), বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বরিশাল নগরীর কিং ফিশার রেস্টুরেন্টে বিশিষ্ট নারীদের সম্মানে তার ব্যক্তিগত উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পেশা ও সামাজিক অঙ্গনের নারীরা উপস্থিত ছিলেন, যেখানে নারীর অগ্রযাত্রা ও নেতৃত্বের প্রশ্নই হয়ে ওঠে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
রহমাতুল্লাহ বলেন, সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়ন নারীদের বাদ দিয়ে কল্পনাও করা যায় না। দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী—তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া টেকসই উন্নয়নের কথা বলা নিছকই আড়ম্বর। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি কিংবা সামাজিক নেতৃত্ব—প্রতিটি ক্ষেত্রেই নারীদের এগিয়ে আসা জরুরি বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, নারীরা যত এগোবে, দেশ তত শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে।
তিনি অভিযোগ করেন, একটি মহল সচেতনভাবেই নারীদের পিছিয়ে রাখতে চায়। যারা নারীদের অধিকার ও মর্যাদা অস্বীকার করে, তাদের পক্ষে দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করা কিংবা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতিবাচক ভাবমূর্তি ধরে রাখা সম্ভব নয়। এই মানসিকতার পরিবর্তন না হলে সামগ্রিক অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রহমাতুল্লাহ আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Tarique Rahman) নারীদের উন্নয়ন ও মর্যাদা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন জনমুখী কার্যক্রম গ্রহণ করেছেন। ফ্যামিলি কার্ড নারীদের নামে হওয়ায় পরিবারে তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বাড়বে এবং আর্থিক নিরাপত্তা জোরদার হবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। তার মতে, নারীরা যখন অর্থনৈতিকভাবে সক্ষম ও স্বাবলম্বী হবেন, তখন পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র—সব ক্ষেত্রেই ইতিবাচক পরিবর্তন অনিবার্য হয়ে উঠবে।
বরিশালের সার্বিক উন্নয়নে নারী সমাজের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে শিক্ষা বিস্তার, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মানবিক মূল্যবোধ চর্চায় নারীদের অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। তিনি নারী নেত্রী ও কর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান, যাতে উন্নয়নের প্রক্রিয়া আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই হয়।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) বরিশাল জেলার সভাপতি প্রফেসর শাহ সাজেদা, ব্লাস্টের নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট শাহেদা তালুকদার, মহিলা পরিষদের সভাপতি পুস্প চক্রবর্তী, মহিলা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি বিলকিস আহমেদ লিলি, জেলা মহিলাদল সভাপতি ফাতেমা রহমান ও সাধারণ সম্পাদক রেশমা রহমান, মহানগর মহিলাদলের সভাপতি ফারহানা তিথী ও সাধারণ সম্পাদক পাপিয়া পারভীন, প্রফেসর ডাঃ সেলিনা পারভীন, চন্দ্রদ্বীপ ডেভলপমেন্ট সোসাইটির প্রধান নির্বাহী সামিয়া আলীসহ বিভিন্ন পেশার নারী উদ্যোক্তা, রাজনীতিবিদ, চিকিৎসক, শিক্ষিকা ও আইনজীবীরা। অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধান করেন নারী নেত্রী আফরোজা খান।
ইফতার শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে উপস্থিত সবাই শান্তি, সমৃদ্ধি ও নারীর অগ্রযাত্রার ধারাবাহিকতা কামনা করেন।


