৪৫০ মামলার ভার বয়ে চলা সোহেলকে নিয়ে কন্যার আবেগঘন স্ট্যাটাস

বিএনপি নেতা হাবীব-উন-নবী খান সোহেল (Habib-un-Nabi Khan Sohel)-কে নিয়ে গভীর আবেগঘন একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন তার মেয়ে জান্নাতুল এলমি সুচানা। বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে তিনি তুলে ধরেছেন ব্যক্তিগত স্মৃতি, দীর্ঘ বঞ্চনা আর এক রাজনৈতিক পরিবারের অঘোষিত সংগ্রামের কথা।

পোস্টের শুরুতেই সুচানা লিখেছেন, ‘একথা সবাই জানে—যে যত সত্যের পক্ষে শক্ত থেকেছে, বিগত সরকার তাকে তত মামলা-হয়রানি করে দমিয়ে রাখতে চেয়েছে।’ তার দাবি, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক মামলা হয়েছে তার বাবার নামেই। ‘ছয়ফুট সাহসের নামে’ পরিচিত এই মানুষটির বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা দেখলেই বোঝা যায়—আপসের ছায়া ঘেঁষেও হাঁটেননি তিনি কোনোদিন।

তিনি আরও লেখেন, এত লম্বা, দৃঢ়চেতা একজন মানুষ কীভাবে বছরের পর বছর মৃত্যু ঝুঁকি নিয়ে পলাতক থেকেছেন, আবার কখনও কারাগারের বদ্ধ ফাঁসির সেলে রাত কাটিয়েছেন—সেই হিসাব কেবল সৃষ্টিকর্তাই জানেন। তার ভাষায়, মধ্যবয়সের সিংহভাগ সময় কেটে গেছে রাজনৈতিক লড়াই আর আইনি জটিলতার ভেতর দিয়ে।

পিতৃস্নেহ থেকে বঞ্চনার বেদনা তুলে ধরে সুচানা বলেন, ‘১৭ বছরে ১৭ দিনও শান্তিপূর্ণভাবে পাইনি তাকে।’ ছোটবোন মায়ের স্নেহেই বড় হয়ে উঠেছে, আর মা প্রতিদিন নিজের কষ্ট আড়াল করে সন্তানদের সাহস জুগিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, রাজনীতির জন্য যিনি ত্যাগ স্বীকার করেন, তার সেই ত্যাগের অংশীদার হয়ে যায় পুরো পরিবারও। ‘আমরা আমাদের প্রতিটি চোখের পানির গল্প, শেকড়ের ইতিহাস—ভুলব না কোনোদিন,’ যোগ করেন তিনি।

তার বিশ্বাস, যারা তার বাবাকে ভালোবেসে দোয়া করেন, তারা প্রত্যেকেই অন্তরে এক একজন ‘লৌহমানব’। পোস্টের শেষাংশে জাতীয়তাবাদের আদর্শে বিশ্বাসী নেতা-কর্মীদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান তিনি। মামলা-হামলা ও নির্যাতনের শিকার সকল যোদ্ধার জন্য মহান আল্লাহর রহমত ও হেফাজত কামনা করেন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (Bangladesh Nationalist Party – BNP) নেতা সোহেলের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ (Awami League) সরকারের আমলে মোট ৪৫০টি মামলা হয়েছে বলে জানা গেছে। এই পরিসংখ্যানই এখন তার কন্যার আবেগঘন পোস্টের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে—সংখ্যার চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে একটি পরিবারের দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের ইতিহাস।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *