দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে সম্মিলিত উদ্যোগের ডাক প্রধানমন্ত্রীর

ঢাকা, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো নিজ কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ে বসেছেন তারেক রহমান (Tarique Rahman)। শনিবার সকালে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে আয়োজিত এ সভা ঘিরে ছিল আনুষ্ঠানিকতা, প্রত্যাশা এবং দায়িত্ববোধের এক স্পষ্ট বার্তা।

সভায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ (Mirza Abbas Uddin Ahmed), মোঃ ইসমাইল জবিউল্লাহ, রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, হুমায়ুন কবির, শামসুল ইসলাম, ডা. জাহেদ উর রহমান ও মাহ্‌দী আমিন উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার (A B M Abdus Sattar)। পরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গঠন, কার্যপরিধি ও চলমান কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত উপস্থাপনা করেন কার্যালয়ের মহাপরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরী (Mohammad Abdul Wadud Chowdhury)।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষ অনেক প্রত্যাশা নিয়ে সরকারের দিকে তাকিয়ে আছে। সেই প্রত্যাশা পূরণের দায়িত্ব কেবল রাজনৈতিক নেতৃত্বের নয়, বরং প্রশাসনের প্রতিটি স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরও সমানভাবে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “সরকার তখনই সফল হবে, যখন আপনারা আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করবেন।”

দেশকে নিজেদের প্রথম ও শেষ ঠিকানা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন কোনো একক প্রচেষ্টায় সম্ভব নয়; এর জন্য প্রয়োজন সমন্বিত ও সম্মিলিত উদ্যোগ। তিনি মনে করিয়ে দেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ সরকারকে যে দায়িত্ব দিয়েছে, তা মূলত নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের দায়িত্ব।

স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নারী শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও ক্রীড়াসহ ঘোষিত অগ্রাধিকার খাতগুলোতে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর জোর দেন তিনি। এসব ক্ষেত্রে নীতিনির্ধারণের পাশাপাশি বাস্তবায়ন পর্যায়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সক্রিয় সহযোগিতা অত্যাবশ্যক বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। নাগরিকদের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ সৃষ্টি করতে প্রশাসনকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে বলে জানান। পাশাপাশি দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে সংশ্লিষ্ট সবার পূর্ণ সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

দেশ ও রাষ্ট্রের স্বার্থে গোপনীয়তা রক্ষা এবং সরকারি বিধি-বিধান কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশনাও দেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের শৃঙ্খলাপূর্ণ ও দায়িত্বশীল আচরণই একটি সুশৃঙ্খল রাষ্ট্রব্যবস্থার ভিত্তি শক্তিশালী করতে পারে।

সভায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার প্রধানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর এই প্রথম আনুষ্ঠানিক মতবিনিময় সভায় প্রশাসনের প্রতি সরকারের প্রত্যাশা এবং সরকারের প্রতি প্রশাসনের দায়িত্ব—উভয় দিকই স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *