জাতীয় সংসদই হবে মতপার্থক্যের সমাধানের মঞ্চ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

রাজনৈতিক মতপার্থক্য, তর্ক-বিতর্ক কিংবা ভিন্ন অবস্থান—সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় স্বার্থে একসঙ্গে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন সালাহউদ্দিন আহমদ (Salahuddin Ahmed)। তাঁর ভাষায়, জাতীয় সংসদই হবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু, যেখানে মতের অমিল থাকবে, কিন্তু সেই অমিলই গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করবে।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় এনসিপি (NCP)-এর প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ইফতার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দলটির বর্ষপূর্তি উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যেদিন থেকে এনসিপির যাত্রা শুরু হয়েছে, সেদিন থেকেই তিনি আশাবাদী ছিলেন—তরুণদের অংশগ্রহণ বাংলাদেশের রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। তাঁর বিশ্বাস, এনসিপি ধীরে ধীরে একদিন দেশের নেতৃত্বের জায়গায় পৌঁছাবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, “আমরা সনাতনী রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। আমরা রাজনীতি করব বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য।” তিনি ইঙ্গিত দেন, গণতন্ত্রের মাঠে নানা মত ও দলের উপস্থিতিই স্বাভাবিক। “গণতন্ত্রের মাঠে অনেক ফুল ফুটবে”—এই মন্তব্য করে তিনি বলেন, কেউ যদি কেবল সাইনবোর্ড হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করে, তবুও তিনি আশা করেন এনসিপি রাজনীতির মাঠে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

জাতীয় ঐক্যের প্রশ্নে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন—“আমরা সবাই জাতীয় স্বার্থে এক থাকবো।” তাঁর মতে, সংসদে তর্ক-বিতর্ক থাকবে, সমালোচনা থাকবে, তবে সব আলোচনা হবে সংবিধান ও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ভেতরে। এভাবেই গণতান্ত্রিক চর্চা এগিয়ে নিতে হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী (Bangladesh Jamaat-e-Islami)-এর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার (Mia Golam Parwar)। তিনি বলেন, জুলাই সনদের কোনো বিষয় সরকারের বাদ দেওয়া উচিত হবে না। তাঁর বক্তব্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলমান আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ উঠে আসে।

সবশেষে তৃণমূল রাজনীতিকে শক্তিশালী করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম (Nahid Islam)। তিনি স্থানীয় সরকার নির্বাচন দ্রুত আয়োজনের দাবি জানান। পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকার যেসব অধ্যাদেশ জারি করেছে, সেগুলো এই সংসদে আইন আকারে পাস করার আহ্বানও জানান তিনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *