ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চলমান সামরিক উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের আকাশপথেও। উদ্ভূত নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে ঢাকা থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী সব ফ্লাইট আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে যাত্রীসেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একগুচ্ছ নির্দেশনা জারি করেছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (Hazrat Shahjalal International Airport) কর্তৃপক্ষ।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস (Biman Bangladesh Airlines)-এর জনসংযোগ মহাব্যবস্থাপক বোসরা ইসলাম। তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক অস্থির পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ থেকে ওই অঞ্চলের সব ফ্লাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে ইরানের হামলার পর যাত্রীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় ফ্লাইট পরিচালনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আপাতত যাত্রীদের নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখেই কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক নিরাপত্তাজনিত প্রেক্ষাপটে ইরান (Iran)-এ ইসরাইল (Israel) কর্তৃক হামলার ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাহরাইন, কুয়েত, দুবাই ও কাতারসহ কয়েকটি দেশের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতির ফলে নির্ধারিত কয়েকটি বাণিজ্যিক ফ্লাইট বাতিল, বিলম্ব অথবা পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে যাত্রীদের ভোগান্তি এড়াতে এবং বিভ্রান্তি কমাতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সগুলোর প্রতি কিছু নির্দিষ্ট নির্দেশনা জারি করেছে।
নির্দেশনাগুলো হলো—
১. ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্ব সংক্রান্ত তথ্য যাত্রীদের এসএমএস, ই-মেইল ও কল সেন্টারের মাধ্যমে অগ্রিমভাবে অবহিত করতে হবে।
২. সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের স্টাফদের বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে যাত্রীদের প্রয়োজনীয় তথ্য ও দিকনির্দেশনা নিশ্চিত করতে হবে।
৩. পুনঃনির্ধারিত ফ্লাইট সংক্রান্ত স্পষ্ট, সমন্বিত ও হালনাগাদ তথ্য প্রদান নিশ্চিত করতে হবে, যাতে অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তি পরিহার করা যায়।
মধ্যপ্রাচ্যগামী যাত্রীদের নিজ নিজ এয়ারলাইন্স অফিস বা ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে যোগাযোগ করে ফ্লাইট স্ট্যাটাস যাচাই ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত যাত্রী নিরাপত্তা ও অপারেশনাল স্বাভাবিকতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। যাত্রীদের সহানুভূতি ও সহযোগিতা একান্তভাবে প্রত্যাশিত।
উল্লেখ্য, স্থানীয় সময় শনিবার যুক্তরাষ্ট্র (United States) ও ইসরাইল ইরানের রাজধানী তেহরানসহ অন্তত ছয়টি শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এর মধ্যে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি (Ayatollah Ali Khamenei)-এর দপ্তরের কাছাকাছি এলাকায়। তবে হামলার আগেই তাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে।
ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার জবাবে ইরানও ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়ে পাল্টা প্রতিহামলা চালায়। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিসহ অন্যান্য লক্ষ্যবস্তুতেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে তেহরান। এতে গোটা অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।
ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে সংলাপ চলছিল। তবে শনিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) জেনেভায় কোনো সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই সেই সংলাপ শেষ হয়। তার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ইরানে হামলার ঘটনা ঘটে, যা চলমান সংকটকে আরও গভীর করেছে।


