যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি (Ayatollah Ali Khamenei) নি’\হত হয়েছেন—এমন দাবি ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। একই ঘটনায় নি’\হত হয়েছেন তার মেয়ে ও নাতি-নাতনিরাও বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যেমন আলোড়ন তৈরি হয়েছে, তেমনি মুসলিম বিশ্বেও শুরু হয়েছে নানা প্রতিক্রিয়া।
ইরানে মার্কিন হামলার প্রেক্ষাপটে পরম করুণাময় আল্লাহর রহমত কামনা করেছেন ইসলামিক স্কলার ও আলোচক ড. মিজানুর রহমান আজহারি (Dr. Mizanur Rahman Azhari)। রোববার (০১ মার্চ) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, “অস্থিরতার আগুনে পুড়ছে জনপদ; চক্রান্তে বিদীর্ণ উম্মাহ আজ দিশেহারা।” তার বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল বৈশ্বিক অস্থিরতা নিয়ে উদ্বেগ ও বেদনার সুর।
তিনি আরও লেখেন, “হে আরশের মালিক! জুলুমের অবসান ঘটিয়ে পৃথিবীতে ন্যায়ের শান্তি প্রতিষ্ঠা করুন।” সংক্ষিপ্ত এই দোয়ার ভাষায় তিনি যেন সমগ্র উম্মাহর পক্ষে শান্তি ও স্থিতিশীলতার আবেদন তুলে ধরেন।
এদিকে খামেনির মৃত্যুতে ইরান সরকার (Iran Government) ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। এ সময় জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা, রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান সীমিত করা এবং দেশজুড়ে বিশেষ দোয়া ও স্মরণসভা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে তার জীবন, নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার চলছে। দীর্ঘ সময় ধরে দেশটির রাজনীতি ও আঞ্চলিক কৌশলে প্রভাব বিস্তারকারী এই নেতার অনুপস্থিতি যে নতুন সমীকরণ তৈরি করবে, তা নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে।
এর আগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু (Benjamin Netanyahu) খামেনির নি’\হত হওয়ার দাবি জানান। পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে (Truth Social) পোস্ট করে একই দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।
ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, “খামেনি, ইতিহাসের অন্যতম দুষ্টু ব্যক্তি, মারা গেছেন। এটি শুধু ইরানের জনগণের জন্য ন্যায়বিচার নয়, বরং সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সেই মহান আমেরিকানদের জন্যও ন্যায়বিচার, যারা খামেনি ও তার রক্তপিপাসু সন্ত্রাসী দলের হাতে নি’\হত বা ক্ষতবিক্ষত হয়েছেন। তিনি আমাদের গোয়েন্দা ও অত্যাধুনিক ট্র্যাকিং ব্যবস্থার নজর এড়াতে পারেননি এবং ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে আমরা নিশ্চিত করেছি যে তিনি বা তার সঙ্গে নি’\হত অন্য নেতারা কিছুই করতে পারেননি।”
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, “এটি ইরানের জনগণের জন্য নিজেদের দেশ পুনরুদ্ধারের সবচেয়ে বড় সুযোগ। আমরা শুনছি যে তাদের আইআরজিসি, সামরিক বাহিনী এবং অন্যান্য নিরাপত্তা ও পুলিশ বাহিনীর অনেকেই আর যুদ্ধ করতে চান না এবং আমাদের কাছ থেকে নিরাপত্তা (ইমিউনিটি) চাইছেন।”
ঘটনাটি ঘিরে বিশ্ব রাজনীতিতে যে নতুন অস্থিরতার অধ্যায় শুরু হলো, তা কতদূর গড়াবে—সেই প্রশ্ন এখন আন্তর্জাতিক কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে।


