দেশে বহু ধরনের কাঠামোতে ন্যূনতম মজুরি কার্যকর থাকলেও একটি সমন্বিত ও স্ট্যান্ডার্ড ন্যূনতম মজুরি এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি—এমন মন্তব্য করেছেন রুহুল কবির রিজভী (Ruhul Kabir Rizvi)। শুক্রবার (১ মে) রাজধানীর নয়াপল্টনে দলীয় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে শ্রমিক দল আয়োজিত এক সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (BNP)-এর সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী বলেন, আজ থেকে প্রায় ১৩০ বছর আগে জার্মানির চ্যান্সেলর বিসমার্ক (Otto von Bismarck) প্রথম ন্যূনতম মজুরির ধারণা সামনে আনেন। সেই থেকে বিশ্বজুড়ে শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে অসংখ্য আন্দোলন হয়েছে, বহু দেশে এটি বাস্তবায়িতও হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে এখনো একটি জাতীয় মানদণ্ডভিত্তিক ন্যূনতম মজুরি নির্ধারিত হয়নি।
তিনি উল্লেখ করেন, সংবাদপত্রেও এই বিষয়টি উঠে এসেছে। তার ভাষায়, “ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড মিনিমাম ওয়েজেস এখনো নির্ধারণ করা যায়নি, যা একটি বড় ঘাটতি।”
রিজভী আরও বলেন, শ্রমিক পরিবারের সন্তান হিসেবে তারেক রহমান (Tarique Rahman) এই বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবেন বলে তিনি আশাবাদী। পাশাপাশি তিনি শ্রমিকদের বিচারপ্রাপ্তির দীর্ঘসূত্রিতার কথাও তুলে ধরেন। তার তথ্য অনুযায়ী, লেবার কোর্ট ও ট্রাইব্যুনালে শ্রমিকদের প্রায় ২৭ হাজার ৫০০ মামলা এখনো ঝুলে আছে, যেগুলোর কোনো কার্যকর সমাধান হয়নি।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, “শ্রমিকরা কি সারাক্ষণ মামলা চালাবে, নাকি উৎপাদনমুখী কাজে মন দেবে?” তার মতে, সভ্যতার অগ্রযাত্রা শ্রমিকদের ঘাম, শ্রম ও আত্মত্যাগের ওপর দাঁড়িয়ে আছে—তাই তাদের ন্যূনতম মজুরি নিশ্চিত করা জরুরি।
শুধু মজুরি নয়, শিল্প খাতের পুনর্জাগরণ নিয়েও কথা বলেন তিনি। বর্তমানে বন্ধ থাকা জুট মিলগুলোকে জাতীয় নীতির আওতায় পুনরায় চালু করার আহ্বান জানান। এতে লাখ লাখ শ্রমিক দেশে থেকেই কাজের সুযোগ পাবে এবং দেশের সম্পদও কার্যকরভাবে ব্যবহৃত হবে বলে মনে করেন তিনি।
বিদ্যুৎ খাতের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া (Khaleda Zia) আদমজী জুট মিল এলাকায় ২১০ মেগাওয়াট এবং গাজীপুরে ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করেছিলেন। তার অভিযোগ, পরবর্তীতে শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)-এর আমলে পরিকল্পিতভাবে এসব বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া হয়, যাতে কুইক রেন্টাল প্রকল্পের মাধ্যমে আত্মীয়-স্বজনদের সুবিধা দেওয়া যায়।
শেষে তিনি আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন এবং শ্রমিকদের স্বার্থে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন।


