বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার পদে আলোচনায় জামায়াতের নাজিবুর রহমান মোমেন

প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী (Jamaat-e-Islami) থেকে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে। দলটির পাবনা-1 আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন এ পদে আলোচনায় রয়েছেন। দলীয় শীর্ষ নেতাদের সূত্রে জানা গেছে, তাকেই মনোনীত করার বিষয়ে অভ্যন্তরীণভাবে ইতিবাচক আলোচনা চলছে।

‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এর প্রস্তাব অনুযায়ী বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের বিধান রাখা হয়েছে। রাষ্ট্রব্যবস্থা সংস্কারের অংশ হিসেবে প্রস্তাবিত এই পরিবর্তনের লক্ষ্য—গণতন্ত্রকে আরও সুসংহত করা এবং সংসদ পরিচালনায় বিরোধী দলের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। এতে বিরোধী দলের মত প্রকাশের সুযোগ ও সংসদীয় প্রক্রিয়ায় তাদের ভূমিকা জোরদার করার কথা বলা হয়েছে।

বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী সাধারণত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার উভয়ই সরকারি দল থেকে নির্বাচিত হন। কিন্তু জুলাই সনদে এই প্রচলিত রীতিতে পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ডেপুটি স্পিকারের পদ বিরোধী দলকে দেওয়ার মাধ্যমে সংসদে ভারসাম্যপূর্ণ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা হবে।

জুলাই সনদের প্রতি সম্মান জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ (Salahuddin Ahmed) গতকাল বলেন, “জুলাই জাতীয় সনদের প্রতি সম্মান দেখিয়ে এবং ঐকমত্যের ভিত্তিতে যে সমঝোতায় আমরা পৌঁছেছি, রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসেবে সেটির বাস্তবায়ন এখন থেকেই শুরু করতে চাই।” তিনি জানান, তাদের দলের পক্ষ থেকে প্রধান বিরোধী দলকে মৌখিকভাবে ও সাক্ষাতে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে—তারা যেন ডেপুটি স্পিকারের নাম ঠিক করে। জাতীয় সংসদে স্পিকার নির্বাচনের দিনই একই সঙ্গে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হতে পারেন বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াতে ইসলামী-এর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, বিএনপি তাদের এ বিষয়ে প্রস্তাব দিয়েছে। পাশাপাশি জুলাই সনদের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। তবে এখনও দলীয় ফোরামে এ নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনা হয়নি।

আলোচনায় থাকা ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন নিজেও বলেন, জুলাই সনদ অনুযায়ী ডেপুটি স্পিকার বিরোধী দল থেকে হওয়ার কথা। সে হিসেবে জামায়াতের পক্ষ থেকেই এ পদে মনোনয়ন আসবে। তবে দলের সংসদীয় ফোরামে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। কে হচ্ছেন ডেপুটি স্পিকার—সে বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা আসেনি।

রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। যদি প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হয়, তবে সংসদীয় চর্চায় একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপিত হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *