মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থার কারণে আকাশপথে তৈরি হওয়া অস্থিতিশীলতা ও কড়াকড়ি বিধিনিষেধের প্রভাব এসে পড়ে বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস (US-Bangla Airlines)-এর ওপরও। সংস্থাটির ফ্লাইট BS344, একটি বোয়িং ৭৩৭ উড়োজাহাজ, দুবাইয়ে অবতরণের পর প্রায় ৪৮ ঘণ্টারও বেশি সময় সেখানে অবস্থান করতে বাধ্য হয়। এই অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে ৩৯ জন পাইলট ও কেবিন ক্রু কার্যত দুবাইয়ে আটকা পড়ে যান।
সেই সময় দুবাই (Dubai) বিমানবন্দরের কার্যক্রমও ছিল সীমিত। গোটা পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত সংবেদনশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ। আকাশপথে অনিশ্চয়তা, নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ এবং আন্তর্জাতিক বিধিনিষেধ—সব মিলিয়ে প্রতিটি সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছিল সতর্কতার সঙ্গে।
এ অবস্থায় ইউএস-বাংলার দুবাই স্টেশন ও ঢাকা হেড অফিস কর্তৃপক্ষ সমন্বিতভাবে কাজ শুরু করে। তারা দুবাই বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (Dubai Civil Aviation Authority)-এর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে একটি নিরাপদ করিডোর নিশ্চিত করার চেষ্টা চালিয়ে যায়। টানা আলোচনার পর স্বল্প সময়ের জন্য একটি বিশেষ অনুমতি মেলে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সম্পূর্ণ প্রস্তুত অবস্থায়, যাত্রীবিহীন একটি বিশেষ ফ্লাইট—BS344D—৩৯ জন ক্রুকে নিয়ে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে উড্ডয়ন করে।
যুদ্ধকালীন এই টানটান পরিস্থিতিতে দুবাই থেকে ছেড়ে আসা এটিই ছিল একমাত্র বাংলাদেশি ফ্লাইট। ফলে পুরো অপারেশনটি শুধু একটি রুটিন ফ্লাইট ছিল না, বরং ছিল সময়ের বিরুদ্ধে এক কৌশলী ও সাহসী পদক্ষেপ।
ফ্লাইটটির নেতৃত্বে ছিলেন ক্যাপ্টেন সামসুজ্জাহান এবং ফার্স্ট অফিসার শাহাদাত। চ্যালেঞ্জিং আবহাওয়া ও অনিশ্চিত আকাশপথ সত্ত্বেও তারা সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। অবশেষে ভোর ২টা ৩৬ মিনিটে উড়োজাহাজটি নিরাপদে ঢাকা (Dhaka)-তে অবতরণ করে। দীর্ঘ উৎকণ্ঠার অবসান ঘটে, স্বস্তি ফেরে সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যে।
এই পুরো ঘটনাপ্রবাহে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস আবারও প্রমাণ করেছে—যাত্রী, পাইলট ও ক্রুদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের অঙ্গীকার। অনিশ্চিত ও ঝুঁকিপূর্ণ সময়েও দায়িত্ববোধ, কার্যকর সমন্বয় এবং সাহসিক সিদ্ধান্তই একটি প্রতিষ্ঠানকে আলাদা করে তোলে। যুদ্ধাবস্থার অস্থিরতার মাঝেও এই উদ্ধার অভিযান তাই পেশাদারিত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে রইল।


