দেশে পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে নতুন ইলেকট্রিক বাস ও ট্রাক আমদানিতে বড় ধরনের শুল্ক-কর অব্যাহতির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই সুবিধার আওতায় আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে নামমাত্র কর পরিশোধ করেই এসব যানবাহন আমদানি করা যাবে।
রবিবার (৩ মে) সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Prime Minister Tarique Rahman)-এর সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ষষ্ঠ বৈঠকে এ সংক্রান্ত প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকটি ছিল নীতিগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও আধুনিক পরিবহন কাঠামো গড়ে তোলার বিষয়টি অগ্রাধিকার পায়।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের উত্থাপিত এই প্রস্তাবটি দেশের পরিবেশ উন্নয়ন এবং আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যেই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে সরকারের সবুজ অর্থনীতি ও টেকসই উন্নয়ন কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এইচএস কোড ৮৭.০২.৪০.০০-এর আওতায় ন্যূনতম ১৭ আসনবিশিষ্ট সম্পূর্ণ নতুন ইলেকট্রিক বাস আমদানির ক্ষেত্রে এই সুবিধা কার্যকর হবে। তবে শর্ত হিসেবে বলা হয়েছে, এসব বাস শুধুমাত্র শিক্ষার্থী পরিবহনের বাইরে অন্যান্য বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের জন্য আমদানি করা যাবে।
এ ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) বহাল থাকবে। তবে ভ্যাট ছাড়া অন্যান্য সকল ধরনের কাস্টমস ডিউটি, রেগুলেটরি ডিউটি, সম্পূরক শুল্ক, আগাম কর এবং অগ্রিম আয়কর সম্পূর্ণভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ফলে মোট করভার দাঁড়াবে মাত্র ১৫ শতাংশে, যা আমদানিকারকদের জন্য উল্লেখযোগ্য সুবিধা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বাসের পাশাপাশি ৫ টন বা তার বেশি ধারণক্ষমতাসম্পন্ন নতুন ইলেকট্রিক ট্রাক আমদানির ক্ষেত্রেও একই ধরনের শুল্ক-কর ছাড় ও সুবিধা প্রযোজ্য হবে বলে জানানো হয়েছে। এর মাধ্যমে ভারী পরিবহন খাতে বৈদ্যুতিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।
এই বিশেষ শুল্ক সুবিধা আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আমদানিকারকরা এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।
মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দ্রুতই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করবে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ। সরকারের এই উদ্যোগকে পরিবহন খাতে আধুনিকায়ন এবং পরিবেশ দূষণ কমানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে দেশে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে বাংলাদেশ আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ (Cabinet Division), অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (Internal Resources Division) এবং জাতীয় সংসদ ভবন (Jatiya Sangsad Bhaban)-কে ঘিরে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত এখন পরিবহন খাতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


