জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণকে রাজনৈতিক বিষয় আখ্যা দিয়ে তা রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করার আহ্বান জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি রিফাত রশীদ (Rifat Rashid)। তিনি বলেন, এসব বিষয় আদালতে না নিয়ে রাজনৈতিক পরিসরেই সমাধান করা উচিত।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। এর আগে জাতীয় জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোট অধ্যাদেশ এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথের চিঠি কেন অসাংবিধানিক ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না—তা জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রতি রুল জারি করেন হাইকোর্ট।
জনস্বার্থে দায়ের করা এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। এই রুলের প্রতিক্রিয়া জানাতেই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
রিফাত রশীদ বলেন, “রাজনৈতিক বিষয়গুলোকে রাজনৈতিকভাবেই ডিল করতে হবে। এটাই সর্বত্র স্বীকৃত। এটাকে কোর্টপাড়ায় নিয়ে গেলে আপনারা ভুক্তভোগী হবেন।”
তিনি দাবি করেন, অতীতেও রাজনৈতিক প্রশ্ন আদালতে নেওয়ার নজির ব্যর্থ হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে ত্রয়োদশ সংশোধনীর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ওই সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল হয় এবং সেখান থেকেই স্বৈরাচারী শাসনের সূচনা ঘটে—যার বড় ভুক্তভোগী ছিল বিএনপি।
রিফাত রশীদ বলেন, “আজ বিএনপি সরকারে আসার পর রাজনৈতিক বিষয়গুলোকে কোর্টপাড়ায় নিয়ে যাচ্ছে।” এ সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সংবিধান প্রসঙ্গে দেওয়া বক্তব্যও উল্লেখ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি রিটকারীদের পরিচয় তুলে ধরে বলেন, আইনজীবী আহসানুল করিম, সৈয়দ মামুন মাহবুব, গাজী কামরুল ইসলাম সজল, গাজী তৌহিদুল ইসলাম, মাহফুজুর রহমান মিলন ও জ্যোতির্ময় বড়ুয়া রিটে আবেদন করেছেন। তাদের মধ্যে গাজী কামরুল ইসলাম সজল বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ও জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। তিনি জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বরিশাল-১ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন।
তিনি আরও বলেন, গাজী তৌহিদুল ইসলাম জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সুপ্রিম কোর্ট ইউনিটের সদস্য সচিব এবং ছাত্রদলের সাবেক সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক। মাহফুজুর রহমান মিলন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক এবং রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ি) আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। “অর্থাৎ স্পষ্টভাবেই দেখা যাচ্ছে, যারা প্রশ্ন তুলেছে, তারা বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্ত,”—মন্তব্য করেন রিফাত।
তিনি বলেন, “বিএনপি যদি বলে তারা এ বিষয়ে নেই, তবে তাদের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে শোকজ করা উচিত।”
এ সময় তারেক রহমান (Tarique Rahman)-এর বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, একদিকে তিনি ‘হ্যাঁ’ ভোট ও জুলাই সনদের পক্ষে প্রচারণা চালান, অন্যদিকে তার দলের আইনজীবীরা সেটি বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন—এ ধরনের অবস্থানকে তিনি ‘দোদুল্যমান’ বলে অভিহিত করেন।
রিফাত রশীদ আরও বলেন, “রাজনৈতিক বিষয়াবলি কখনোই আদালতের এখতিয়ারভুক্ত নয়। রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা না করলে বিপত্তি হবে।” তার মতে, যদি জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হয়, তবে এতে জড়িত বর্তমান সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সব রাজনৈতিক দল দায়ী হবে।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে ঐকমত্য কমিশনে সব দল অংশ নিয়েছিল। ফলে জুলাই সনদ বাতিল হলে সংবিধানবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার দায়ে তারেক রহমান, ডা. শফিকুর রহমান (Dr. Shafiqur Rahman), নাহিদ ইসলামসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রো’\হ মামলার দাবি উঠতে পারে। তার ভাষায়, “গণভোট নিয়ে প্রশ্ন উঠলে জাতীয় নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন উঠবে।”


