মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে ড্রোন হামলার ঘটনা। সৌদি আরব (Saudi Arabia)-এর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করা ইরান (Iran)-এর নয়টি ড্রোন তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে শনাক্ত করে ভূপাতিত ও ধ্বংস করেছে।
মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ড্রোনগুলো শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিট সক্রিয় করা হয়। এরপর দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিয়ে ড্রোনগুলোকে লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই ধ্বংস করা সম্ভব হয়। কর্তৃপক্ষের দাবি, এই ঘটনার ফলে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের ঘটনা বা বড় ধরনের অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
তবে ঘটনার আরেকটি দিক নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের কিছু প্রতিবেদন। এসব প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি রাজধানী রিয়াদ (Riyadh)-এ অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস কমপ্লেক্সের ভেতরে থাকা একটি সিআইএ (CIA) স্টেশন সন্দেহভাজন ইরানি ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অন্তত দুটি ড্রোন ওই কমপ্লেক্সের ভেতরে আঘাত হানে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আঘাতের পরপরই কমপ্লেক্সের ভেতরে বিস্ফোরণের মতো শব্দ শোনা যায় এবং আশপাশের এলাকা ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। এতে একটি ভবনের আংশিক ছাদ ধসে পড়ে এবং স্থাপনার বিভিন্ন অংশে উল্লেখযোগ্য ক্ষতির চিহ্ন দেখা যায়। যদিও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।
এদিকে বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে যে রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা বাড়ছে, তারই প্রতিফলন হিসেবে এমন ড্রোন হামলার আশঙ্কা বাড়ছে। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (United States), ইসরায়েল (Israel) এবং ইরানকে ঘিরে চলমান দ্বন্দ্ব নতুন করে অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।
পর্যবেক্ষকদের আশঙ্কা, এই ধরনের ঘটনা যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেতে পারে।


