সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত নিজ নিজ অফিসে বাধ্যতামূলকভাবে অবস্থান করার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। সেবাগ্রহণকারী নাগরিকদের সুবিধা নিশ্চিত করা, প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আনা এবং আন্তঃদপ্তর সমন্বয় আরও কার্যকর করার লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২ মার্চ) এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করেন নাসিমুল গনি (Nasimul Gani), যিনি মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর স্বাক্ষরিত ওই পরিপত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অফিসে আসার পথে ব্যক্তিগত কিংবা দাপ্তরিক নানা কর্মসূচিতে—যেমন সেমিনার, প্রশিক্ষণ অথবা ব্যাংক ও হাসপাতালে গমন—অংশ নেওয়ার কারণে নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত থাকতে পারেন না। এর ফলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ব্যাহত হয় এবং প্রশাসনিক গতিশীলতায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের লক্ষ্যেই নতুন করে নির্দিষ্ট ৪০ মিনিটের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতে কোনো দাপ্তরিক কর্মসূচি প্রণয়নের সময়ও যেন সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিটের এই নির্ধারিত সময় বিঘ্নিত না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। অর্থাৎ দিনের শুরুতেই নাগরিক সেবাকে অগ্রাধিকার দিতে চায় সরকার।
তবে এ নির্দেশনার বাইরে রাখা হয়েছে কিছু বিশেষ ক্ষেত্র। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, হাসপাতাল ও জেলখানার মতো জরুরি সেবায় রোস্টার ডিউটিতে নিয়োজিত কর্মীরা এই বাধ্যবাধকতার আওতায় পড়বেন না। একইভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যদের ক্ষেত্রেও এ নিয়ম প্রযোজ্য হবে না। পাশাপাশি ভিভিআইপি প্রটোকল কিংবা আকস্মিক বড় কোনো দুর্ঘটনা মোকাবেলার মতো জরুরি পরিস্থিতিতে এই নিয়ম শিথিল করা যেতে পারে বলেও পরিপত্রে উল্লেখ রয়েছে।
পরিপত্রে আরও কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে—কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি বা সুস্পষ্ট দাপ্তরিক প্রয়োজন ছাড়া অফিস চলাকালীন কোনো অবস্থাতেই কর্মস্থল ত্যাগ করা যাবে না। শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই এ নির্দেশনা জোরালোভাবে আরোপ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগেও ২০১৯ ও ২০২১ সালে একই ধরনের নির্দেশনা জারি করেছিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ (Cabinet Division)। নতুন পরিপত্রের মাধ্যমে আবারও সেই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করা হলো, যা প্রশাসনিক কাঠামোতে সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টারই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


