মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের জেরে একের পর এক দেশ তাদের আকাশসীমা বন্ধ রাখায় এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের বিমান চলাচলে। ইরান (Iran), ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করায় আন্তর্জাতিক রুটে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে যুক্তরাষ্ট্র (United States) ও ইসরাইল (Israel)-এর সঙ্গে ইরানের সংঘাত শুরু হওয়ার পর টানা পাঁচ দিনে, বুধবার (৪ মার্চ) পর্যন্ত মোট ১৭৩টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। প্রতিদিনই বাড়ছে এই সংখ্যা, যা যাত্রী ও এয়ারলাইন্স উভয়ের জন্যই বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে।
বুধবার (৪ মার্চ) বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর তালিকায় রয়েছে—
QR – কাতার (Qatar): ৪টি,
KU – কুয়েত (Kuwait): ২টি,
J9 – জাজিরা (কুয়েত): ২টি,
G9 – এয়ার অ্যারাবিয়া (শারজাহ, সংযুক্ত আরব আমিরাত): ৮টি,
EK – এমিরেটস: ৫টি,
BS – ইউএস-বাংলা: ৪টি।
শুধু বুধবারই আরও ২৫টি ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭৩-এ। পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তনের কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও প্রতিনিয়ত ফ্লাইট সূচি পুনর্বিন্যাস করতে বাধ্য হচ্ছে।
জানা গেছে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (Hazrat Shahjalal International Airport)-এ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২৩টি, ১ মার্চ ৪০টি, ২ মার্চ ৪৬টি এবং ৩ মার্চ ৩৮টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। বুধবারের ২৫টি যুক্ত হয়ে এ পর্যন্ত বাতিল ফ্লাইটের মোট সংখ্যা ১৭৩-এ পৌঁছেছে। প্রতিদিনের এই ধারাবাহিক বাতিলাদেশে যাত্রীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তি বাড়ছে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালানোর পর পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি ঘটে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে হামলা চালালে অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। চলমান সংঘাতে ব্যাপক হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। এই অস্থিরতার প্রভাব এখন সরাসরি পড়ছে বৈশ্বিক বিমান চলাচল ও যাত্রীসেবায়।


