যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান “অপারেশন এপিক ফিউরি” নিয়ে বিস্তৃত বক্তব্য দিয়েছেন ক্যারোলিন লিভিট (Karoline Leavitt), যিনি হোয়াইট হাউস (White House)-এর প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি জানান, অভিযানের শুরুতেই ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) আমেরিকান জনগণের সামনে এই সামরিক পদক্ষেপের লক্ষ্য স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন।
লিভিটের ভাষ্য অনুযায়ী, এই বড় সামরিক অভিযানের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ইরানের শাসকগোষ্ঠীর মারাত্মক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করা, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র শিল্পকে সম্পূর্ণভাবে অকার্যকর করে দেওয়া এবং ইরানি শাসনব্যবস্থার নৌবাহিনীকে কার্যত নিশ্চিহ্ন করা।
তিনি দাবি করেন, এখন পর্যন্ত অভিযানে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। গত রাতে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ইরানের শীর্ষ সাবমেরিনসহ ২০টিরও বেশি জাহাজ ধ্বংস করেছে। তার ভাষায়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথমবারের মতো যুদ্ধক্ষেত্রে টর্পেডো ব্যবহৃত হয়েছে।
লিভিট আরও বলেন, বর্তমানে আরব উপসাগর, হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) কিংবা ওমান উপসাগর (Gulf of Oman)—কোনো জায়গাতেই ইরানের কোনো যুদ্ধজাহাজ অভিযান চালাচ্ছে না। তার মতে, এই পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের কার্যকারিতাকেই তুলে ধরে।
তিনি বলেন, “অপারেশন এপিক ফিউরি নিশ্চিত করবে যে এই অঞ্চলে শাসকগোষ্ঠীর সন্ত্রাসী প্রতিনিধিরা আর মধ্যপ্রাচল বা মুক্ত বিশ্বকে অস্থিতিশীল করতে পারবে না এবং আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর ওপর আক্রমণ চালাতে পারবে না।”
এছাড়া এই অভিযানের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হিসেবে তিনি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির কথাও উল্লেখ করেন। লিভিটের বক্তব্য অনুযায়ী, এই সামরিক পদক্ষেপ নিশ্চিত করবে যে ইরান কখনও পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে।
তিনি আরও জানান, আজ সকালে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ থেকে যে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে ধারণা করা হচ্ছে আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের আকাশসীমার ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে। তার ভাষায়, এই পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের সাহসী যোদ্ধাদের জন্য আকাশপথকে পুরোপুরি নিরাপদ করে তুলবে এবং অভিযানের পরবর্তী ধাপ বাস্তবায়নে সহায়তা করবে।


