যুক্তরাষ্ট্র চাইলেও ক্ষমতা নেওয়ার মতো শক্তিশালী বিরোধী গোষ্ঠী নেই ইরানে: বিশ্লেষক

ইরানে সামরিক হামলার মাধ্যমে দেশটির বর্তমান শাসকগোষ্ঠীকে সরিয়ে দেওয়া সম্ভব—মার্কিন প্রশাসনের এমন ধারণাকে বাস্তবসম্মত মনে করছেন না অনেক বিশ্লেষক। তাদের মতে, ইরানের ভেতরে এমন কোনো সংগঠিত বিরোধী শক্তি নেই, যারা ক্ষমতা গ্রহণ করে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিতে পারে।

ম্যালকম এইচ কের কার্নেগি মিডল ইস্ট সেন্টার (Malcolm H. Kerr Carnegie Middle East Center)-এর পরিচালক মাহা ইয়াহইয়া (Maha Yahya) বলেন, ইরানের রাজনৈতিক বাস্তবতা অনেক জটিল এবং সেখানে ক্ষমতা গ্রহণের মতো সুসংগঠিত বিরোধী কাঠামো গড়ে ওঠেনি।

আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “ইরানের রাষ্ট্রক্ষমতার দায়িত্ব নেবে—এমন কোনো সংগঠিত বিরোধী শক্তি দেশটিতে নেই।”

তার মতে, যদি শাসনব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটে, তাহলে ক্ষমতা কোনো একক গোষ্ঠীর হাতে না গিয়ে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী, রাজনৈতিক কাঠামো ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিভক্ত হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বর্তমানে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যে কয়েকজন বিরোধী মুখের কথা বলা হয়, তাদের মধ্যেও কার্যকর রাজনৈতিক সংগঠন বা শক্ত ভিত্তি নেই বলেই মনে করেন ইয়াহইয়া। তিনি বলেন, বর্তমানে ঘোষিত একমাত্র বিরোধী নেতা হিসেবে সামনে আছেন সাবেক শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলাভি (Mohammad Reza Pahlavi)-এর ছেলে, যিনি দেশের বাইরে অবস্থান করছেন।

একই সঙ্গে ইরানের ভেতরে কুর্দি নেতৃত্বাধীন কোনো গণঅভ্যুত্থান ঘটতে পারে—এমন ধারণাকেও তিনি বাস্তবতা থেকে দূরে বলে মন্তব্য করেন।

ইয়াহইয়ার মতে, সামনের দিনগুলোতে ইরানের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ও বিশৃঙ্খলা আরও বাড়তে পারে। সংঘাত-পরবর্তী পরিস্থিতি দেশটির রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও কঠোর করে তুলতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তিনি।

তার ভাষায়, “সংঘাতের পর যে তেহরান থাকবে, তা ভিন্নমতালম্বীদের ওপর আরও বেশি দমনপীড়ন চালাতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “আগামীকালও যদি সেখানে যুদ্ধ বন্ধ হয়ে যায়, তারপরও ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নাজুকই থাকবে।”

সূত্র: আল জাজিরা (Al Jazeera)

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *