আবু সাঈদ হ’ত্যা মামলার রায় ৯ এপ্রিল ঘোষণা করবে ট্রাইব্যুনাল

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (Begum Rokeya University) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হ’\ত্যা মামলার রায় আগামী ৯ এপ্রিল ঘোষণা করা হবে। বৃহস্পতিবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী (Nazrul Islam Chowdhury)-এর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (International Crimes Tribunal)-২ এ তথ্য জানিয়েছে।

এর আগে গত ২৭ জানুয়ারি মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হয়। যুক্তি-পাল্টা যুক্তি উপস্থাপন শেষ হলেও সেদিন রায় ঘোষণার জন্য নির্দিষ্ট কোনো তারিখ ধার্য করেনি ট্রাইব্যুনাল। মামলাটি তখন রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়।

এর আগে ২১ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত তিন কার্যদিবস ধরে প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়। এ সময় মামলার পুরো ঘটনাপ্রবাহ ট্রাইব্যুনালের সামনে তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি বেরোবি ক্যাম্পাসের মূল ফটকের সিসিটিভি ফুটেজও ট্রাইব্যুনালে প্রদর্শন করা হয়, যেখানে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই আবু সাঈদ হ’\ত্যা’\কা’\ণ্ডের সময়কার দৃশ্য ধারণ ছিল।

মামলার প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপিত ভিডিও ফুটেজে কে কোথায় ছিলেন এবং কার কী ভূমিকা ছিল—তা শনাক্ত করে দেখান প্রসিকিউটর মিজানুল (Mizanul)। যুক্তিতর্কের শেষ পর্যায়ে ৩০ জন আসামির সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানায় প্রসিকিউশন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন আইনজীবী আমিনুল গণি টিটো (Aminul Gani Tito), আজিজুর রহমান দুলু (Azizur Rahman Dulu), আবুল হাসানসহ স্টেট ডিফেন্স আইনজীবীরা। তারা তাদের মক্কেলদের বেকসুর খালাস দাবি করেন।

এই মামলায় বর্তমানে কারাগারে থাকা ছয় আসামি হলেন—এএসআই আমির হোসেন, বেরোবির সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল ও আনোয়ার পারভেজ। তবে বেরোবির সাবেক ভিসি হাসিবুর রশীদসহ ২৪ জন এখনও পলাতক রয়েছেন।

গত বছরের ২৭ আগস্ট প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। এর আগে ৬ আগস্ট ৩০ জন আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) গঠন করে ট্রাইব্যুনাল-২। পলাতক আসামিদের পক্ষে ২২ জুলাই স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী হিসেবে চারজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

এ ছাড়া তদন্ত সংস্থা ২৪ জুন প্রধান প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় এবং ৩০ জুন ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ আমলে নেয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *