অন্তর্বর্তী সরকারের দুই সাবেক উপদেষ্টাকে ‘মীরজাফর’ আখ্যা জামায়াতের

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি বলে দাবি করে অন্তর্বর্তী সরকারের দুই সাবেক উপদেষ্টাকে ‘মীরজাফর’ আখ্যা দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী (Bangladesh Jamaat-e-Islami)। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন দলের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের (Syed Abdullah Mohammad Taher)।

তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে ৫৩টি আসনে ভোটগ্রহণ নিয়ে তাদের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা (Syeda Rizwana)-র সাম্প্রতিক বক্তব্যে আগের সরকারের তথাকথিত ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর প্রমাণ পাওয়া গেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তাহের বলেন, “ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযোগের বিষয়ে জাতির কাছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান (Khalilur Rahman) ‘লন্ডন ষড়যন্ত্র’-এর মূল হোতা ছিলেন এবং বর্তমান সরকারকে ক্ষমতায় আনতে তিনি বিগত সরকারের ভেতর থেকেই নানা ধরনের ষড়যন্ত্র করেছেন।

জামায়াতের নায়েবে আমির বলেন, সাবেক ওই উপদেষ্টারা জাতির সুষ্ঠু নির্বাচনের আকাঙ্ক্ষাকে ভণ্ডুল করেছেন। তাদেরকে ‘মীরজাফর’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচনী ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযোগে অভিযুক্ত ওই দুই সাবেক উপদেষ্টাকে আইনের মাধ্যমে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা উচিত।

তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি তারা একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘রাজসাক্ষী’ পেয়েছেন, যার নাম সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপিকা অ্যাডভোকেট রিজওয়ানা। এক সাংবাদিকের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি নাকি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, কিছু রাজনৈতিক শক্তিকে বিরোধী দলে রাখলেও তাদেরকে মূলধারার শক্তি হিসেবে উঠে আসতে দেওয়া হয়নি।

তাহেরের দাবি, এ বক্তব্যের মাধ্যমে নির্বাচন নিয়ে আগে যে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর অভিযোগ উঠেছিল, সেটি পরোক্ষভাবে স্বীকার করে তিনি এক ধরনের রাজসাক্ষী হয়ে উঠেছেন। তিনি জানতে চান, তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও বর্তমান সরকারের মধ্যে কোনো ধরনের সমঝোতার মাধ্যমে কি জামায়াতে ইসলামীকে মূলধারার বা সংখ্যাগরিষ্ঠ শক্তি হিসেবে উঠে আসা থেকে বাধা দেওয়া হয়েছিল।

এ প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই নির্বাচনী প্রকৌশলের সঙ্গে আর কারা জড়িত ছিলেন—পুরো সরকার নাকি সরকারের কোনো শক্তিশালী অংশ নির্বাচনকে প্রভাবিত করেছিল।

জামায়াত নেতা আরও অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের শুরুতেই তাদের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শপথ পড়ান, যা তার আগের অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ছিল। তাহেরের ভাষায়, এতে স্পষ্ট হয় যে খলিলুর রহমান লন্ডন ষড়যন্ত্রের অন্যতম প্রধান ব্যক্তি ছিলেন এবং সেই ষড়যন্ত্রের পুরস্কার হিসেবেই তিনি মন্ত্রিত্ব পেয়েছেন।

এ ঘটনায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (Bangladesh Nationalist Party-বিএনপি)-এর ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাহের বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিএনপির নেতা সালাউদ্দিন আহমেদ (Salahuddin Ahmed) প্রকাশ্যে খলিলুর রহমানের সমালোচনা করেছিলেন এবং তাকে সরকার থেকে অপসারণের দাবি জানিয়েছিলেন।

তারপরও কীভাবে তিনি পরে বিএনপির আস্থাভাজন হয়ে মন্ত্রী হলেন—এ প্রশ্ন তুলে তাহের বলেন, সম্ভবত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কোনো ধরনের সমঝোতা হয়েছিল। সেই সমঝোতার অংশ হিসেবে নির্বাচনে সহায়তার বিনিময়ে পরবর্তীতে তাকে মন্ত্রী করা হয়েছে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

তিনি বলেন, এসব অভিযোগের সত্যতা জানতে খলিলুর রহমানকেও জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা উচিত। কারণ জাতি জানতে চায়, কী ধরনের পরিকল্পনা বা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জনগণকে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

এ সময় তিনি আরও বলেন, গণভোটে জনগণ সংস্কারের পক্ষে রায় দিলেও সরকার এখন সেই সংস্কার প্রক্রিয়া থেকে সরে এসে নানা সিদ্ধান্তের মাধ্যমে জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে। একই সঙ্গে সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির জন্য সরকারকে দায়ী করেন তিনি।

ডেপুটি স্পিকার পদ প্রসঙ্গে তাহের বলেন, সংবিধানের আলোকে সরকার লিখিত প্রস্তাব দিলে বিষয়টি বিবেচনা করবে জামায়াত। তবে সে ক্ষেত্রে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *