অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া (Asif Mahmud Sajib Bhuiyan)-র ব্যক্তিগত সহকারী (এপিএস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন মোয়াজ্জেম হোসেন। তার বড় ভাই রিয়াজুল ইসলাম, যিনি পেশায় আগে গাড়িচালক ছিলেন, সাম্প্রতিক সময়ে হঠাৎ বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে আয়কর নথিতে দেখা গেছে।
২০২৪-২৫ কর বর্ষে দাখিল করা আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী, রিয়াজুল ইসলাম মোট ১ কোটি ৮০ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য দিয়েছেন। নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এই সম্পদের প্রায় পুরোটাই অর্জিত হয়েছে ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র আট মাসে।
এই সময়টাতেই তার ছোট ভাই মোয়াজ্জেম হোসেন সাবেক উপদেষ্টার এপিএস হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
আয়কর নথি অনুযায়ী, বর্তমানে রিয়াজুল ইসলামের নামে দুটি গাড়ি, ব্যাংকে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের আমানত এবং প্রায় কোটি টাকার ব্যবসায়িক মূলধন রয়েছে। এর বাইরেও তার নামে-বেনামে আরও সম্পত্তি থাকার তথ্য পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
স্থানীয়ভাবে রিয়াজুল ইসলাম ‘ইলিয়াস মণ্ডল’ নামেও পরিচিত। সম্পদের সঙ্গে সঙ্গে এলাকায় তার পরিচিতি ও প্রভাবও বদলে গেছে বলে স্থানীয়দের বক্তব্য।
তবে দুর্নীতি দমন কমিশন (Anti-Corruption Commission-দুদক) থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এসব সম্পদ অর্জনের পক্ষে রিয়াজুল ইসলাম ওরফে ইলিয়াস মণ্ডল কোনো বৈধ উৎস দেখাতে পারেননি।
আয়কর নথিতে তিনি ব্যবসায়িক মূলধন দেখিয়েছেন ৯৬ লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ টাকা। এছাড়া রাজধানীর শ্যামলীতে অবস্থিত ডাচ্-বাংলা ব্যাংক পিএলসি (Dutch-Bangla Bank PLC)-এর একটি হিসাবে তার ১৬ লাখ ৯৯ হাজার ৭২৮ টাকার এফডিআর রয়েছে, যার অর্জনের তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে গত বছরের ১০ নভেম্বর।
এর দুই দিন আগে একই হিসাবের একটি সঞ্চয়ী আমানতে ৪ লাখ ২৮ হাজার ৮৬৭ টাকা জমার তথ্যও আয়কর নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া গত বছরের ৩০ জুন তার কাছে নগদ ৩ লাখ ১৫ হাজার ৯৩১ টাকা থাকার তথ্য দেওয়া হয়েছে।
নথি অনুযায়ী, ডেলটা লাইফ ইনস্যুরেন্স (Delta Life Insurance)-এ তার জমা রয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৩৯২ টাকা।
এছাড়া রিয়াজুল ইসলাম ও তার স্ত্রী সাথী খাতুনের নামে দুটি গাড়ি কেনা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েই এই দুটি গাড়ি কেনা হয়। এর মধ্যে রিয়াজুলের নিজের নামে কেনা নোয়া মাইক্রোবাস (ঢাকা মেট্রো গ-৩১-৫২৯৮)-এর মূল্য আয়কর নথিতে দেখানো হয়েছে ৪৩ লাখ ৬৫ হাজার টাকা, যা কেনা হয়েছে ২০২৪ সালের ৩০ নভেম্বর।
অন্যদিকে তার স্ত্রী সাথী খাতুনের নামে থাকা একটি প্রাইভেট কার (ঢাকা মেট্রো চ-১২-৬৮৯৭)-এর মূল্য দেখানো হয়েছে ১২ লাখ ৯০ হাজার ৫০০ টাকা। গাড়িটি কেনা হয়েছে গত বছরের ৩০ জুন।
এর আগে গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও তার এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে শতকোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে দুর্নীতি দমন কমিশন (Anti-Corruption Commission)-এ। অভিযোগটি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু হলেও পরে তা অজ্ঞাত কারণে থেমে গেছে বলে জানা গেছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে রিয়াজুল ইসলাম বলেন, “আমার দুইটা গাড়ি আর ব্যাংকে কিছু টাকার এফডিআর ছাড়া আর কিছুই নেই। যদি আরও কিছু থাকত, তাহলে দুদক তো মামলা করত।”
আয়কর নথিতে প্রায় কোটি টাকার ব্যবসায়িক মূলধন দেখানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এটা আসলে আইনজীবী করেছেন, আমি ঠিক জানি না। আমার সব মিলিয়ে ৮০ লাখ টাকার বেশি সম্পদ হবে না।”
সূত্র: আজকের পত্রিকা


