একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারের বক্তব্য খণ্ডিতভাবে প্রচার করে বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান (Syeda Rizwana Hasan)। তিনি বলেছেন, নারীর প্রতি উগ্রবাদী আচরণ ও কটূক্তির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধের কথা বলতে গিয়ে তার বক্তব্য ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সাবেক প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম (Shafiqul Alam) নিজের ফেসবুক পোস্টে রিজওয়ানা হাসানের ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, একটি টিভি সাক্ষাৎকারে দেওয়া মন্তব্য কিছু মানুষ ইচ্ছাকৃতভাবে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করছে, যদিও তিনি মূলত উগ্রবাদী প্রবণতার বিরোধিতা নিয়েই কথা বলেছিলেন।
ব্যাখ্যায় সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, আলোচনাটি ছিল নারীদের প্রতি উগ্রবাদী আচরণ—যেমন মাজারে হামলা, বাউলদের ওপর নির্যাতন এবং নারীদের নিয়ে কটূক্তির মতো ঘটনাগুলো নিয়ে। এসব প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যারা নারীদের নিয়ে কটূক্তি করেছে তাদের বিরুদ্ধে নারী সমাজ প্রতিবাদ করেছে, আইনি নোটিশ দিয়েছে এবং সরকারের পক্ষ থেকেও প্রতিক্রিয়া এসেছে। এর ফলে অভিযুক্তদের অনেকেই ক্ষমা চাইতে বাধ্য হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তার বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল—এই ধরনের কটূক্তিকারী বা উগ্রবাদী শক্তি যেন সমাজে প্রভাবশালী হয়ে উঠতে না পারে, সে বিষয়ে নারী সমাজকে সচেতন ও সক্রিয় থাকতে হবে।
রিজওয়ানা হাসানের দাবি, তার বক্তব্যে নির্বাচন বা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রসঙ্গ ছিল না। উপস্থাপক কথোপকথনের মাঝে নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুললে তিনি শুধু বলেন, বিরোধী রাজনীতির যে অংশ নারীর ক্ষমতায়ন ও সমঅধিকারের পক্ষে—সেই অংশের সঙ্গে কাজ করা যেতে পারে।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমি কোনো দলের নাম উল্লেখ করিনি। বিরোধী দল তো স্বাভাবিকভাবেই মূলধারার রাজনীতির অংশ। আমার বক্তব্যকে বিকৃত করে নির্দিষ্ট দলের নাম জুড়ে দেওয়া সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং অপ্রয়োজনীয় বিভ্রান্তি তৈরি করছে।”
এর আগে বুধবার চ্যানেল ওয়ান (Channel One)-এর ‘মুখোমুখি’ অনুষ্ঠানে সাংবাদিক নয়ন আদিত্য (Noyon Aditya)-র প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটির একটি অংশ পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে বিভিন্ন ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ শুরু হয়।
রিজওয়ানা হাসান মনে করেন, নারীর প্রতি ঘৃণা, বিদ্বেষ বা উগ্র আচরণের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু বক্তব্যের একটি অংশ আলাদা করে প্রচার করায় মূল বার্তাটি আড়ালে চলে গেছে।


