অমর একুশে বইমেলা ভাষা, সংস্কৃতি ও মুক্তচিন্তার প্রাণের মিলনমেলা: সংস্কৃতি মন্ত্রী

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, অমর একুশে বইমেলা কেবল বই কেনাবেচার স্থান নয়; বরং এটি বাঙালির ভাষা, সংস্কৃতি এবং মুক্তচিন্তার চর্চার এক গুরুত্বপূর্ণ মিলনমেলা। এখানে লেখক, পাঠক, প্রকাশক—সবার মধ্যে এক ধরনের সৃজনশীল সংযোগ তৈরি হয়, যা জাতির সাংস্কৃতিক শক্তিকে আরও সমৃদ্ধ করে।

শনিবার (৭ মার্চ) অমর একুশে বইমেলা প্রাঙ্গণ পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম উপস্থিত ছিলেন। মেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে তারা বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থার স্টল ঘুরে দেখেন এবং প্রকাশক, লেখক ও আগত পাঠকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পুরো পরিবেশজুড়ে ছিল বইপ্রেমীদের ভিড় ও নতুন বইয়ের প্রতি আগ্রহের স্পষ্ট প্রতিফলন।

পরিদর্শনের অংশ হিসেবে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বেশ কয়েকটি নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন। এর মধ্যে ছিল সোনিয়া হোসেন রচিত ‘টিনএজদের বলছি’ এবং সৈয়দ দিদার বখত রচিত ‘দাদুর মুখে ভাষা আন্দোলন’ সহ আরও কয়েকটি নতুন প্রকাশনা। নতুন প্রজন্মের পাঠকদের কথা মাথায় রেখে প্রকাশিত এসব বইকে তারা ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।

সংস্কৃতি মন্ত্রী বলেন, একটি অন্ধকার সময়ের অবসান ঘটিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর নেতৃত্বে দেশ নতুন গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, সরকার সংস্কৃতির বিকাশ, সৃজনশীল কর্মকাণ্ড এবং মুক্তচিন্তার পরিবেশ নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বইমেলা সেই প্রচেষ্টারই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন, যেখানে দেশের সাহিত্য ও চিন্তার জগৎ নতুন করে প্রাণ পায়।

তিনি আরও বলেন, নতুন প্রজন্মের মধ্যে পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা সময়ের দাবি। পাশাপাশি ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস, ত্যাগ ও চেতনাকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে এ ধরনের বই বিশেষ ভূমিকা রাখবে। বইমেলাকে ঘিরে প্রকাশনা শিল্পের বিকাশ এবং নতুন লেখকদের সৃষ্টিশীল উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানান।

মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলা একাডেমি এর মহাপরিচালকসহ দেশের বিশিষ্ট কবি, সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি পরিণত হয় এক অনাড়ম্বর সাহিত্যিক আয়োজনে।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, বইমেলা শুধু একটি সাংস্কৃতিক আয়োজন নয়; এটি বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির বিকাশের অন্যতম শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম। লেখক, প্রকাশক ও পাঠকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই এই আয়োজন প্রতি বছর আরও সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে।

শেষে সংস্কৃতি মন্ত্রী বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির বিকাশে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান এবং বইমেলার মতো আয়োজনকে দেশের সাংস্কৃতিক অগ্রযাত্রার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *