সংসদ ভবনের স্টোর রুম থেকে দেড় কোটি টাকার কপার উধাও, চলছে ধামাচাপা দেবার চেষ্টা

দেশের সবচেয়ে সংরক্ষিত স্থাপনাগুলোর একটি জাতীয় সংসদ ভবন (Jatiya Sangsad Bhaban)-এর স্টোর রুম থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের কপার উধাও হওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে। বিষয়টি প্রথমে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত তা ‘হারিয়ে গেছে’ বলে উল্লেখ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পুরো ঘটনা তদন্তে উদ্যোগ নিয়েছে গণপূর্ত অধিদপ্তর (Public Works Department – PWD)।

জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ‘আমব্রেলা প্রজেক্ট’-এর আওতায় সংসদ ভবনের নবম তলায় স্থাপিত বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র সংস্কার করা হয়। ওই সময় পুরনো উপকেন্দ্রের এলটি ও এইচটি প্যানেল থেকে ব্যবহারের পর অবশিষ্ট ১৩৪৩টি কপার বার সংসদের দক্ষিণ প্লাজার নিচে অবস্থিত মেইন মেকানিক্যাল প্লান্ট (এমএমপি) স্টোরে সংরক্ষণ করা হয়। স্টোরটির দায়িত্বে ছিলেন উপ-সহকারী প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিন।

গত ২১ জানুয়ারি অব্যবহৃত কপার বারসহ অন্যান্য উদ্ধৃত্ত সামগ্রী বিক্রির জন্য একটি সার্ভে রিপোর্ট প্রস্তুতের সময় দেখা যায়, সংরক্ষিত ১৩৪৩টি কপার বারের মধ্যে মাত্র অল্প কয়েকটি পাওয়া গেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে ২৪ জানুয়ারি উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আসিফ রহমান নাহিদ (Asif Rahman Nahid) একটি চিঠি পাঠান। সেই চিঠিতে কপার বারগুলোকে ‘হারিয়ে যাওয়া’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

চিঠিটি তিনি নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন (Anwar Hossain)-কে পাঠান এবং অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীকে অনুলিপি প্রদান করেন।

ঘটনার প্রায় দেড় মাস পার হয়ে গেলেও এ বিষয়ে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে। এ প্রসঙ্গে নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন বলেন, বিষয়টি তিনি আগেই জেনেছেন। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন, নতুন সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিপরিষদের শপথ অনুষ্ঠান এবং আসন্ন অধিবেশনের প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত থাকায় বিষয়টিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি।

তিনি আরও বলেন, এত মূল্যবান সামগ্রী ‘হারিয়ে যাওয়া’ বলে মানা যায় না। এটি স্পষ্টতই চুরির ঘটনা। তার মতে, অধীনস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহযোগিতা ছাড়া এত বিপুল পরিমাণ কপার সরানো সম্ভব নয়।

সংসদের একটি সূত্র জানিয়েছে, এমএমপি রুমটি সিসিটিভি কভারেজের আওতায় ছিল। কিছুদিন আগে সিসিটিভি নষ্ট হওয়ার বিষয়টি নির্বাহী প্রকৌশলীকে জানান উপ-সহকারী প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিন। এরপর তিনি নিজ উদ্যোগে কোনো টেন্ডার প্রক্রিয়া ছাড়াই সেখানে নতুন সিসিটিভি স্থাপন করেন।

গণপূর্তের কয়েকজন কর্মকর্তা মনে করছেন, সিসিটিভি নষ্ট হওয়ার ঘটনাটি পরিকল্পিত হতে পারে এবং ওই সময়ের মধ্যেই কপারগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে মো. আশ্রাফুল হক (Ashraful Haque), গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, জানান যে তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরী তাকে এ বিষয়ে অবহিত করেছেন এবং তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. মাহাবুবুল হক চৌধুরী (Mahabubul Haque Chowdhury) এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

অন্যদিকে স্টোর রুমের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিন বলেন, তিনি নতুন যোগ দিয়েছেন এবং স্টোর রুম যেভাবে পেয়েছেন সেভাবেই আছে। কপার বার উধাও হওয়ার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *