চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের আতঙ্কের জনপদ হিসেবে পরিচিত জঙ্গল সলিমপুর (Jangal Salimpur) আবারও জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে। সীতাকুন্ড (Sitakunda) উপজেলার এই দুর্গম পাহাড়ি এলাকাকে সন্ত্রাসমুক্ত করতে এবার বড় পরিসরের অভিযানে নেমেছে যৌথবাহিনী। ভোর থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে অন্তত ১৫ জন সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং উদ্ধার করা হয়েছে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রশস্ত্র।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার ভোরে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব (Rapid Action Battalion) ও বিজিবি (Border Guard Bangladesh)-এর প্রায় চার হাজার সদস্য চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে জঙ্গল সলিমপুর এলাকা। তবে অভিযান শুরু হওয়ার আগেই খবর পেয়ে সেখানকার কিছু সন্ত্রাসী এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অগ্রযাত্রা ঠেকাতে সন্ত্রাসীরা আগে থেকেই নানা ধরনের বাধা তৈরি করে রেখেছিল। কোথাও রাস্তার ওপর আড়াআড়িভাবে বড় ট্রাক রেখে পথ বন্ধ করা হয়। আবার কোথাও কালভার্ট ভেঙে দেওয়া হয়, এমনকি নালার স্ল্যাব পর্যন্ত তুলে ফেলা হয়। তবু এসব বাধা অতিক্রম করে রাস্তা ও নালা ভরাট করে ভোরেই অভিযানে প্রবেশ করে যৌথবাহিনী।
দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় বহু বছর ধরেই জঙ্গল সলিমপুর সন্ত্রাসীদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছিল। চার দশক ধরে সরকারি পাহাড় কেটে এখানে গড়ে উঠেছে কয়েক হাজার অবৈধ বসতি। এসব বসতির আড়ালে জমি দখল ও প্লট বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে গড়ে তোলা হয় বিভিন্ন সন্ত্রাসী বাহিনী, যারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকাজুড়ে প্রভাব বিস্তার করে আসছে।
ভোর থেকে টানা অভিযানে বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসীকে আটক করা হয় এবং বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার ও সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে এলাকায় পুলিশ ও র্যাবের দুটি আলাদা ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ (Ahsan Habib Polash)।
প্রশাসনের তথ্যমতে, প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর সরকারি খাস জমির ওপর গড়ে উঠেছে জঙ্গল সলিমপুরের এই বিস্তৃত জনপদ। অতীতে এই এলাকা ঘিরে সরকারের নানা উন্নয়ন পরিকল্পনা থাকলেও সন্ত্রাসীদের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের কারণে সেসব উদ্যোগ বারবার থমকে গেছে। এবার পুরো এলাকাকে নতুনভাবে সাজানোর পরিকল্পনা নিয়েছে প্রশাসন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, জঙ্গল সলিমপুরে দীর্ঘদিন ধরে দুটি সন্ত্রাসী পক্ষ সক্রিয়। একটি পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছে মোহাম্মদ ইয়াসিন (Mohammad Yasin) এবং অপর পক্ষের নেতৃত্বে রোকনউদ্দিন। গত জানুয়ারিতে এলাকায় অভিযানে যাওয়া এক র্যাব কর্মকর্তার হ’\ত্যা’\র মামলার প্রধান আসামিও ইয়াসিন।
ওই ঘটনার পর জঙ্গল সলিমপুরে বড় ধরনের সমন্বিত অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে থাকায় তখন সেই অভিযান আর বাস্তবায়ন করা হয়নি। এবার পরিস্থিতি বদলাতে এবং দীর্ঘদিনের সন্ত্রাসের অধ্যায় শেষ করতে প্রশাসন মাঠে নেমেছে পূর্ণ শক্তি নিয়ে।


